এলাকায় লাগামছাড়া চোলাই মদের দৌরাত্ম্যে কার্যত বিপর্যস্ত আদিবাসী পাড়া। চোলাই পান করে প্রতিদিন সংসারে অশান্তি, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অবক্ষয়ের অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলারা। শুধু তাই নয়, ক্রমশ অল্প বয়সের যুবকরাও চোলাইয়ের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা।
রবিবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের বলগোনা আদিবাসী পাড়ায় পৌঁছায় রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ কর্মসূচির ট্যাবলো। সেখানেই জনপ্রতিনিধিদের সামনে নিজেদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও ক্ষোভ উগরে দেন আদিবাসী মহিলারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে চোলাই কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাতার থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিকবার বলগোনা আদিবাসী পাড়ায় অভিযান চালিয়ে চোলাই তৈরির উপকরণ নষ্ট করেছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে কয়েকজন চোলাই কারবারিকে। তবে পুলিশের এই অভিযানের পরেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি গ্রামবাসীদের। বলগোনা আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা দুর্গি কিস্কু, কালিদাসী কিস্কু ও লক্ষ্মী কিস্কুর অভিযোগ, নতুন বছর শুরু হতেই চোলাই কারবার আরও বেড়েছে। তাঁদের দাবি, আশপাশের ও অন্য এলাকা থেকে চোলাই সংগ্রহ করে কিছু অসাধু ব্যক্তি আদিবাসী পাড়ায় এনে রমরমিয়ে বিক্রি করছে। এর জেরে তাঁদের স্বামী ও পরিবারের পুরুষ সদস্যরা চোলাই পান করে বাড়িতে এসে প্রায়শই অশান্তি সৃষ্টি করছেন।
আদিবাসী মহিলাদের বক্তব্য, সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরে তাঁরা শান্তিতে রাত কাটাতে পারছেন না। নেশার ঘোরে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকছে, যার ফলে পরিবারে মানসিক চাপ বাড়ছে। সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই নেশার কবলে পড়বে—এই আশঙ্কায় আতঙ্কিত তাঁরা। এ বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা ও তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন,
“এলাকাবাসীর কাছ থেকে চোলাই কারবার সংক্রান্ত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন ও আবগারি দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে”।
অন্যদিকে, গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। তিনি বলেন, “রাজ্যের বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় চোলাই মদের কারবার বেআইনিভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন সব জানার পরেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফল ভোগ করছেন সাধারণ আদিবাসী মহিলারা। শুধু অভিযান দেখিয়ে দায় সারলে চলবে না, চোলাই চক্রের মূল মাথাদের ধরতে হবে। নচেৎ এই সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়বে”। চোলাইয়ের রমরমায় বিপন্ন বলগোনা আদিবাসী পাড়ায় এবার প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।








