বর্ধমানে আদিবাসী সমাজের অনশন আন্দোলন বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনে পড়ল। আদিবাসী নেতা তথা প্রাক্তন পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাধিপতি দেবু টুডু-র নেতৃত্বে এই অনশন কর্মসূচি চলছে। টানা পাঁচ দিন অনশন চলায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, মাঝেমধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন।
বুধবার অনশন মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন, রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তিনি অনশনরত দেবু টুডু-র সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বিগত দিনে অনশন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী-ও। অনশন মঞ্চে প্রতিদিনই আদিবাসী সমাজের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত একাধিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই ইস্যুতে আদিবাসী সমাজের সাংবিধানিক অধিকার ও পরিচয়ের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
অনশন মঞ্চে টাঙানো বিভিন্ন প্রতিবাদী পোস্টারে লেখা রয়েছে—
“আমরা বাংলায় বাস করি, ভারতবর্ষের আদিম জাতি আমরা। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আমাদের অস্তিত্বের উপর আঘাত”।
“এসআইআর-এর নামে বাংলার মানুষের উপর অত্যাচার আমরা মানব না”।
“যাঁরা আমাদের কাগজ দেখতে চান, আগে তাঁদের কাগজ দেখাতে হবে”।
“আমরা আদিম জাতি, এসআইআর-এর নামে কাগজ দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না”।
অনশন কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা দেবু টুডু বলেন, “আমরা বাংলার মাটিতে জন্মেছি। এই দেশের আদিম জাতি আমরা—আদিবাসী সমাজ। আজ আমাদেরই নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রশ্ন তুলে দেওয়া হচ্ছে। এসআইআর-এর নামে আমাদের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। যাঁরা আমাদের কাগজ দেখতে চান, তাঁদেরই আগে জবাব দিতে হবে—এই দেশটা কে বানিয়েছে, এই মাটিতে কার রক্ত মিশে আছে। আমরা হাজার হাজার বছর ধরে এই দেশে বাস করছি। আজ হঠাৎ করে বলা হচ্ছে—তোমরা প্রমাণ দাও! এটা শুধু প্রশাসনিক প্রশ্ন নয়, এটা আমাদের সম্মান, পরিচয় এবং অস্তিত্বের উপর সরাসরি আঘাত”।
এই অনশন কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সে জন্য গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।








