উচ্ছ্বাস, সংস্কৃতি আর সম্প্রীতির মিলনমেলায় শুরু হল উচলন উৎসব ২০২৬। বাইশে জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব চলবে আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। উচলন ফুটবল ময়দানে বসেছে বর্ণাঢ্য মেলা। এ বছর উচলন উৎসব পা রাখল তার ১২তম বর্ষে—একটি গর্বের অধ্যায়।
এই উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শেখ সাবীর আলীর স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চেয়ারম্যান রাজেশ সাহানা ও সভাপতি শেখ জাফর আলী। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোবিন্দ ঘোষ, ছায়া গুহ ও চঞ্চল দে। যুগ্ম সম্পাদক বিনয় মুখার্জি ও মুন্সি হাসিবুর রহমান, সহ-সম্পাদক শেখ হানিফ আলী ও মনিরুল আলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মেলা পেয়েছে পূর্ণতা।
২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেল চারটেয় শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। উদ্বোধনের দিন দুপুর বারোটা থেকে দুটো পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় অঙ্কন প্রতিযোগিতা, যেখানে শিশুদের রঙিন স্বপ্নে ভরে ওঠে মেলার প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যা ছ’টায় ‘মিরাক্কেল সৃজন সিক্স’ খ্যাত রাজু মিদ্দারের মনোরম অনুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে, সঙ্গে ছিলেন জি বাংলা খ্যাত শুভাশিস মুখার্জি। রাত আটটায় পূর্ণিমা মান্ডির সুরেলা গানে আবেগে ভাসে গোটা মেলা চত্বর।
২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে ছ’টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠান, আর সাড়ে সাতটায় মঞ্চস্থ হবে রবীন্দ্রভারতী অপেরার যাত্রাপালা—সংস্কৃতির এক অনন্য উপহার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগামের চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল, রায়না বিধানসভার বিধায়ক শম্পা ধারা, জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক অলক কুমার মাঝি, বিশিষ্ট সমাজসেবী মোল্লা শফিকুল ইসলাম সহ আরও বহু বিশিষ্টজন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মহারাজ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ইমামদের যৌথ উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তায়।
উচলন উৎসব শুধু বিনোদনের নয়—এ উৎসব সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনের এক আবেগঘন উৎসব।








