পূর্ব বর্ধমান জেলার শহর বর্ধমানের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নীলপুর এলাকায় এক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। অভিযোগের তীর একজন বিজেপি নেতার দিকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত বিবাহের ব্যবস্থা করা হয় বলে দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মহিলা দীর্ঘদিন ধরে বড় নীলপুর এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে এবং তাঁর ডিভোর্স সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে বিচারাধীন বলে জানা গেছে। অভিযোগ, ইদানীং ওই মহিলার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই নিয়েই এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক কটাক্ষ করা হয়। তৃণমূলের বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ছবি থাকা এক বিজেপি নেতা ভোটের আগে ঘরে ঘরে ঢুকে বেড়াচ্ছেন—এই ঘটনায় সমাজে কী বার্তা যাবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব দাস জানান, “দীর্ঘদিন ধরেই ওই যুবকের আসা-যাওয়া ছিল। হঠাৎ করে মহিলার প্রাক্তন স্বামী এসে ঝামেলা শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত কিছু ভিডিও মোবাইলে দেখান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পাড়ার লোকজন বিষয়টি মেটাতে বিবাহের ব্যবস্থা করে”।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “কোনও অবৈধ সম্পর্ক ছিল না। পরিচয় ছিল, মাঝেমধ্যে আসতাম। শিশুটির দেখভাল করতাম মাত্র। হঠাৎ করে শিশুটির বাবা এসে ঝামেলা শুরু করেন”। তিনি আরও জানান, পাড়া-প্রতিবেশীদের কথায় যাতে আর অশান্তি না হয়, সেই কারণেই বিয়ে করা।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি শ্যামল রায় বলেন, বিজেপি নেতাকর্মীদের থেকে এর থেকে বড় কিছু আশা করা যায় না। লোকের সংসার ভাঙ্গা এবং অবৈধ সম্পর্কের জড়িয়ে যাওয়া এটা বিজেপি নেতাদের প্রথম কাজ।
প্রতিক্রিয়া আসে বিজেপির তরফে। ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র ডক্টর শান্তরূপ দে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি কোনও রকম রাজনৈতিক বা সামাজিক ‘কালচার’ শেখার প্রয়োজন বোধ করে না। তিনি দাবি করেন, সন্দেশখালি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কী ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত, তা বিজেপি যেমন দেখছে, তেমনই রাজ্যের সাধারণ মানুষও প্রত্যক্ষ করছে।
ডক্টর দে আরও বলেন, যেখানে খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নাম জড়াচ্ছে, সেখানে কোনও ব্যক্তি কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন বা রাখবেন না—তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কে কার সঙ্গে থাকবেন, সেটি একান্তই তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, সেখানে রাজনৈতিকভাবে মন্তব্য করার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইন যেখানে নিজের পথে চলছে, আইন যখন মান্যতা দিচ্ছে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস কোন অধিকার নিয়ে বিচারক সেজে কোনটা আইনসম্মত আর কোনটা নয়, তা নির্ধারণ করতে চাইছে? তৃণমূল কংগ্রেস কি নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে আইন ব্যাখ্যা ও রায় দেওয়ার?
সবশেষে তাঁর দাবি, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সময়সীমা প্রায় শেষের পথে।








