আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক সুকান্ত মজুমদারের! বর্ধমানে শুরু হল সাজেশন বক্স কর্মসূচি! সাংবাদিক বৈঠক থেকে একের পর এক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে তোপ সুকান্তর

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

কেন্দ্রীয় বাজেট কেবল অর্থনৈতিক নথি নয়, রাজনীতির ভাষায় তা এক শক্তিশালী বার্তাবাহক। সেই বার্তাকেই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে শহর বর্ধমানে সাংবাদিক বৈঠক করেন সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে সাজেশন বক্স কর্মসূচি শুরু করল বিজেপি। রবিবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচির সূচনা রাজনৈতিক মহলে নানা ইঙ্গিত বহন করছে।

বর্ধমান সদর বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার যে বক্তব্য রাখেন, তা শুধু বাজেটের ব্যাখ্যা নয়—বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশলের দিকনির্দেশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’, ‘প্রাক-প্ল্যানিং’ এবং ‘বাস্তবায়ন’-এর মতো শব্দ, যা মোদি সরকারের শাসনদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সুকান্ত মজুমদারের দাবি অনুযায়ী, এবারের বাজেট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুদূরপ্রসারী ভাবনারই প্রতিফলন, যা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের মাধ্যমে কার্যকর রূপ পেয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর কেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার উল্লেখ করে তিনি বাংলার প্রতি কেন্দ্রের সদিচ্ছার বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

এই বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি নির্মলা সীতারামণের ধারাবাহিক বাজেট পেশের বিষয়টিকে সামনে আনেন। এর মধ্য দিয়ে একদিকে নারী নেতৃত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে সরকারের স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। বিজেপির রাজনৈতিক বয়ানে এই ধারাবাহিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ আরেকটি দিক হল সাজেশন বক্স কর্মসূচি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ যেখানে বিজেপি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে, সেখানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপি সরাসরি মানুষের মতামত শোনার বার্তা দিতে চাইছে। বাজেট ঘোষণার পরপরই এই কর্মসূচি শুরু হওয়া নিছক সাংগঠনিক উদ্যোগ নয়, বরং জনসংযোগ রাজনীতিরই অংশ।

সুকান্ত মজুমদার তাঁর বক্তব্যে জিএসটি সংস্কার, শ্রম আইন সংশোধন এবং করছাড়ের বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। গত বাজেটে ঘোষিত ট্যাক্স ছাড় এবছর কার্যকর হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী শ্রেণির মন জয়ের চেষ্টা করেছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

See also  ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিক্ষোভ, পূর্ব বর্ধমানেও পথে নামল শাসকদল

সব মিলিয়ে বর্ধমানে সাজেশন বক্স কর্মসূচি ও সুকান্ত মজুমদারের সাংবাদিক বৈঠক বিজেপির একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে—কেন্দ্রীয় বাজেটকে হাতিয়ার করে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করা, উন্নয়নের ভাষায় বিরোধী আক্রমণের মোকাবিলা করা এবং মানুষের মতামত সংগ্রহের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি করা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আরও জোরদার হবে। বাজেটের অঙ্কের বাইরেও যে রাজনীতির অঙ্ক চলছে, বর্ধমানের এই কর্মসূচি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। রানাঘাটে এক বৃদ্ধ বাঙালি দম্পতির ওপর শাসক দলের নেতার অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়ে ওই বৃদ্ধ দম্পতি শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে ভিন রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই ঘটনায় আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল, কে আসলে বাংলার শত্রু। এই ঘটনার ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু’জন বাঙালি কমে গেলেন। এর দায়িত্ব কি শাসক দল নেবে? নেবে না। কথায় কথায় ‘জয় বাংলা’ বললেও বাস্তবে বাঙালিদেরই তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে”।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাসক দল মুখে বাঙালিত্বের কথা বললেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ। বিশেষ করে প্রান্তিক ও দুর্বল শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে আউসগ্রামের বর্ণ নবগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি ভাইরাল হওয়া ছবির প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সুকান্ত মজুমদার। ওই ছবিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেডে কুকুর শুয়ে থাকার দৃশ্য দেখা যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই একটি ছবিই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে কীভাবে ক্রমশ ভেঙে পড়ছে, তা এর থেকেই স্পষ্ট”।

তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে অর্থবান মানুষজন আগেই অন্য রাজ্যে চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন। কিন্তু আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষদেরও বাধ্য হয়ে নিজেদের সহায়-সম্বল বিক্রি করে ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করাতে যেতে হবে। “বাড়ির কাছাকাছি যদি ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ বাইরে যেতে বাধ্য হবেই,” বলেন তিনি।

See also  মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব মাতঙ্গিনী হাজরার নামে ভুল বলবেন না, তমলুকে প্রতিক্রিয়া শুভেন্দু অধিকারীর

সুকান্ত মজুমদার আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নীল-সাদা রঙের বড় বড় ভবন তৈরি করে সেগুলিকে মেডিকেল কলেজ বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও অসম্পূর্ণ। তাঁর দাবি, কেবল ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত হয় না, তার জন্য দক্ষ চিকিৎসক ও উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

সব মিলিয়ে তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায়, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি