আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়, হাইকোর্টে লিখিত আশ্বাস রাজ্যের; স্বস্তিতে সরকারি কর্মীরা।

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

সুমন্ত দাস, কৃষকসেতু :- আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক, কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয়। আজ, ১৯ জুন, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে লিখিতভাবে এই অবস্থান স্পষ্ট করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর পাশাপাশি আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, কোনো কর্মী ওই দিনের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। রাজ্যের এই স্পষ্ট আশ্বাসের পর বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ মামলাটির নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন।


গত ১৪ জুন রাজ্যের মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, আগামী ২১ জুন সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কলকাতার রেড রোড, বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণ অথবা কর্মীদের নিজস্ব দপ্তরে সমস্ত স্তরের (স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক) সরকারি কর্মীদের উপস্থিত থাকতে হবে। এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বামপন্থী কর্মচারীদের সংগঠন ‘কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। তাদের মূল দাবি ছিল, ছুটির দিনে যোগ দিবসে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক রাখা হোক।

আজ শুনানির সময় রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতের কাছে স্পষ্ট করেন যে, মুখ্যসচিবের পাঠানো ওই বার্তাটি আসলে কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা ছিল না, সেটি ছিল মূলত একটি সাধারণ আবেদন বা ‘আপিল’। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, মূল উদ্দেশ্য ছিল জনস্বাস্থ্যের প্রচার এবং যোগ দিবসে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু এতে কাউকে জোর করা হচ্ছে না। রাজ্যের এই লিখিত বিবৃতির পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা মৌখিকভাবে মন্তব্য করেন, “বিষয়টি যেহেতু বাধ্যতামূলক নয় এবং কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জায়গা নেই, তাই এই মামলার আর কোনো প্রয়োজন ছিল না”। এর পরেই আদালত মামলাটি খারিজ না করে আইনিভাবে নিষ্পত্তি করে দেয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হতে চলেছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ভিআইপি সমাবেশ ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ ট্রাফিক অ্যাডভাইজারি জারি করা হয়েছে। হাইকোর্টের আজকের এই আদেশের পর রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী বড়সড় স্বস্তি পেলেন।

See also  সরকারের পুনর্বাসনের আশ্বাসে নতুন জীবন শুরুর সিদ্ধান্ত; অন্য মাওবাদীদেরও আত্মসমর্পণের আহ্বান

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি