পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের সেলিমাবাদ হাই স্কুলে সোমবার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের দিন কাটাল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। পড়াশোনার একঘেয়েমির বাইরে গিয়ে আনন্দ, শেখা আর স্বনির্ভরতার পাঠ—এই তিনকে একসূত্রে বেঁধে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় খদ্যমেলার। এদিন গোটা স্কুল চত্বর জুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।
খদ্যমেলায় ছাত্রছাত্রীরাই ছিল মূল আকর্ষণ। তারা নিজেরাই নানা ধরনের খাবারের স্টল সাজায়—কোথাও ঝাল-মুড়ি, কোথাও পিঠে-পুলি, আবার কোথাও ঘরোয়া নানা মুখরোচক খাবার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ছাত্রছাত্রীরাই ছিল একাধারে বিক্রেতা ও ক্রেতা। বন্ধুর স্টল থেকে খাবার কিনছে কেউ, আবার নিজে দাঁড়িয়ে অন্যকে বিক্রি করছে—এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ছিল একেবারেই নতুন ও আনন্দদায়ক।
খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা বিশেষভাবে নজর দেয় পরিচ্ছন্নতা ও হাইজিনের দিকে। সহজলভ্য দাম রেখে সুন্দরভাবে সাজানো স্টল থেকে খাবার বিক্রি করা হয়। এই উদ্যোগে শিক্ষকরাও পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁরাও ক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ বাড়িয়ে দেন।
খদ্যমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। উদ্বোধনের পর থেকেই শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের মিলিত অংশগ্রহণে কেনাকাটা ও আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে স্কুল চত্বর।
এই খদ্যমেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্বনির্ভরতার মানসিকতা গড়ে তোলা। স্কুলজীবন থেকেই যাতে তারা উদ্যোগ নেওয়া, হিসেব রাখা, ক্রেতার সঙ্গে কথা বলা এবং দায়িত্ববোধ শেখে—সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসুদেব সাঁতরা বলেন, “আজকের দিনটা আমাদের ছেলে-মেয়েরা খুব আনন্দের সঙ্গে কাটিয়েছে। সরকার চাইছেন, স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রছাত্রীরা স্বনির্ভর হওয়ার পাঠ নিক। সেই ভাবনা থেকেই আমরা এই খদ্যমেলার আয়োজন করেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এমন উদ্যোগ খুবই জরুরি”।
খুদে উদ্যোক্তাদের হাসি, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উৎসাহ আর সহযোগিতায় সেলিমাবাদ হাই স্কুলের খদ্যমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের জীবনে স্বপ্ন দেখার ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথে এক সুন্দর অনুপ্রেরণা হয়ে রইলো।








