বর্ধমানে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সাম্প্রতিক যোগদান কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যখন চর্চা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দলবদলের রাজনীতি নতুন কিছু নয় এবং জনগণই শেষ পর্যন্ত এর বিচার করবে।
অপার্থিব ইসলামের বক্তব্য, “গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই নিজের মত প্রকাশ ও রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে উন্নয়ন, জনস্বার্থ ও মানুষের পাশে থাকার প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই আপসহীন”। তাঁর দাবি, বর্ধমান জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী রয়েছে এবং কোনও একটি যোগদান কর্মসূচিতে দলের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাবে—এমন ভাবনার কোনও কারণ নেই।
আইএসএফ-এর কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধীদের তরফে যে ‘বড়সড় রাজনৈতিক ভাঙন’-এর দাবি করা হচ্ছে, তা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ। তাঁর মতে, “কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দলত্যাগকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, উন্নয়নের কাজ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস আজও মানুষের আস্থার জায়গায় রয়েছে”।
তিনি আরও বলেন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে গ্রামস্তর পর্যন্ত একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে রাজ্য সরকারের কাজ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সেই কারণেই রাজনৈতিক প্ররোচনায় হওয়া দলবদল দীর্ঘমেয়াদে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেই তাঁর দাবি।
আইএসএফ-এর যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এই প্রসঙ্গে অপার্থিব ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের আগে নানা নাটক হয়। কিন্তু শেষ কথা বলে মানুষ। আর মানুষ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষেই ভোট দেয়”।
এদিন তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তাও দেন। তাঁর আহ্বান, কোনও রকম গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে মানুষের পাশে থাকার কাজ আরও জোরদার করতে হবে। তাতেই রাজনৈতিক বিভ্রান্তির জবাব দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
বর্ধমানে আইএসএফ-এর কর্মসূচি এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া ঘিরে জেলা রাজনীতিতে যে উত্তাপ বাড়ছে, তা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।








