কার্তিক পাল: উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা মালদহ। এই মালদা জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ইংরেজ বাজার পৌরসভা। অথচ এই পৌরসভা এলাকায় ইদানিং যত্রতত্র গজিয়ে উঠছে বেআইনি ও প্ল্যান বহির্ভূত বহুতল। শহরজুড়ে কান পাতলেই শোনা যায়, এক শ্রেণীর প্রোমোটার ও পৌরসভার কাউন্সিলরদের অশুভ আঁতাত। এবার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্তদের রেহাত করা হবে না বলে জানান ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ী।

শুক্রবার সাত সকালে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষ করে মালদা টাউন স্টেশনে নেমে সাংবাদিকদের এমনটাই জানালেন তিনি। প্রসঙ্গত এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ইংরেজবাজার কেন্দ্রে জয়লাভ করার পর রাজ্য বিধানসভার বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতকের গুরু দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করা হয়েছে দল এবং মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। মুখ্য সচেতক হিসেবে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে শুক্রবার খুব ভোরে পদাতিক এক্সপ্রেসে মালদায় ফেরেন। তাকে স্বাগত জানাতে মালদা টাউন স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির নেতা নেত্রী সহ সাধারণ কর্মী সমর্থকেরা। ট্রেন থেকে স্টেশনে নামতেই বিজেপি নেতাকর্মীদের সংবর্ধনার জোয়ারে ভেসে যান। একাধিক বিজেপি নেতানেত্রী সহ সাধারণ কর্মীরা তার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে, হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানান। অভিনন্দন পর্ব শেষ হওয়ার পর তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন,
ইংরেজবাজার পৌরসভার অধীন যত নতুন বা পুরোনো বহুতল তৈরি হয়েছে, সেগুলির বৈধতা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি শহরের প্রতিটি বিল্ডিংয়ের অনুমোদিত নকশা এবং মাপজোখ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবে। যদি দেখা যায় কোনো বিল্ডিং পুরসভার দেওয়া প্ল্যান বহির্ভূতভাবে বা বেআইনি উপায়ে তৈরি হয়েছে, তবে আইন অনুযায়ী সেগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধায়ক স্পষ্ট করে দেন, “আইন সবার জন্য সমান। প্রয়োজনে সেই সমস্ত বেআইনি বহুতল ভেঙে ফেলা হবে।” কাউকে রেয়াত করা হবেনাএর পাশাপাশি ইংরেজবাজার পুরসভার অন্দরে চলা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি জানান, পুরসভার ফাইল গায়েব বা বেআইনি প্ল্যান পাসের পেছনে যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তারও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কাউন্সিলররা যদি যুক্ত থাকেন এবং যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
মালদা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি জানান, শহরের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ সুগম করতে হকারদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালানো হবে। তবে প্রশাসন অমানবিক হবে না, গরীব মানুষদের বিপক্ষে নয়। ফুটপাতে ব্যবসা করে সংসার চালানো গরিব হকারদের রুজি-রুটির কথা মাথায় রেখে উচ্ছেদের পাশাপাশি তাঁদের সঠিক পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে এবং সেটা করাও হবে।








