ভূত ছাড়ানোর নামে এক যুবকের উপর চালানো হলো নৃশংস ও অমানবিক অত্যাচার। হাতে-পায়ে দড়ি বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—চিৎকার করে প্রাণ বাঁচানোর আর্তি জানালেও থামেনি নির্যাতন। কুসংস্কারের অন্ধ বিশ্বাসে এই অকথ্য ঘটনা ঘটেছে কালনা থানার অন্তর্গত কালনা দু’নম্বর ব্লকের বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার থেকেই ওই যুবকের উপর এই নির্যাতন চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলেও সর্বসমক্ষে নয়, ঘরের ভিতরে কাপড়ের আড়ালে তথাকথিত ‘ভূত ছাড়ানোর’ কাজ চলছিল। এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন গ্রামেরই এক মহিলা ওঝা।
কেন এমন নির্মম আচরণ—এই প্রশ্নে নির্যাতিত যুবকের মা জানান, পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যু হলেও পিণ্ডদান না হওয়ায় যুবককে ভূতে ধরেছে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। সেই কুসংস্কার থেকেই ভূত তাড়ানোর নামে এই অমানবিক অত্যাচার চলছে। ঘটনার পর গ্রামবাসীদের কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন। অভিযুক্ত ওঝা ইতিমধ্যেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে কালনা বিজ্ঞান মঞ্চের সহকারী সভাপতি তাপস কুমার কার্ফা বলেন, “ভিডিও দেখে আমরা স্তম্ভিত। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও অপরাধমূলক ঘটনা।
কোনোভাবেই এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কুসংস্কারের নেশায় মানুষ এমন কাজ করছে। আগে প্রশাসন ঘটনার লাগাম টানুক, তারপর ওই এলাকায় বিজ্ঞান মঞ্চ গিয়ে সচেতনতা ও সেমিনারের মাধ্যমে মানুষের চোখ খুলবে।” এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে—একুশ শতকে দাঁড়িয়েও কুসংস্কার কতটা গভীরে সমাজকে গ্রাস করেছে, আর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কতটা জরুরি।








