বসিরহাট : রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে চরম ক্ষোভ ছড়াল বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মধ্যে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন ফর্ম ফিলাপকে কেন্দ্র করে এবার প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন বিএলওরা। অভিযোগ, নির্বাচনী দায়িত্বের বাইরে গিয়ে তাদের দিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম সংগ্রহ ও পূরণের কাজ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সেই নির্দেশের প্রতিবাদেই শুক্রবার বসিরহাট বসিরহাট দক্ষিণ চক্রের এসআই অফিসের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বহু বিএলও।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করেন এবং ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, ভোটের কাজ ছাড়া অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। অথচ হঠাৎ করেই তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে জানানো হয় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন ফর্ম বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করতে হবে এবং সেই কাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে। এই নির্দেশের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএলওরা। তাদের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে একাধিক অতিরিক্ত কাজের চাপ তাদের উপর চাপানো হয়েছে। নির্বাচন ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ, সমীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের।
ফলে মূল নির্বাচনী কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তার উপর এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপের নির্দেশ কার্যত “অতিরিক্ত বোঝা” বলে দাবি করেন তারা। বিক্ষোভে সামিল একাধিক বিএলও জানান, তারা সরকারি কর্মচারী হলেও নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই কাজ করেন। সেই নিয়ম ভেঙে অন্য প্রকল্পের কাজ চাপিয়ে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। অনেকের অভিযোগ, মৌখিক ও ডিজিটাল নির্দেশ দিয়ে কাজ করানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কোনও লিখিত সরকারি নির্দেশ এখনো পর্যন্ত তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। এদিন বসিরহাট দক্ষিণ চক্র এসআই অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান বিএলওরা।
চলে স্লোগান, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ উগরে দেওয়া। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “নির্বাচনী কাজ ছাড়া অন্য কোনও কাজ আমরা করব না।” পাশাপাশি দ্রুত এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পাশাপাশি বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিককে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই কাজের দায়িত্ব বিএলওদের উপর চাপানো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।







