আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

পলাতক তৃণমূল নেতার ‘খাঁন বস্ত্রালয়’ থেকে উদ্ধার সরকারি ত্রাণের বিপুল মজুত, সরগরম জামালপুরের রাজনীতি

krishna Saha

Published :

BJP MLA Arun Haldar
WhatsApp Channel Join Now

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান:- সরকারি ত্রাণ সামগ্রীকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে তৃণমূলের জামালপুর ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁনের মালিকানাধীন ‘খাঁন বস্ত্রালয়’ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল উদ্ধার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, বস্ত্র ব্যবসার নামে থাকা ওই প্রতিষ্ঠানে একটি বস্ত্রও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জামালপুর বিডিও অফিস সংলগ্ন পুলমাথা এলাকায় অবস্থিত তৃণমূলের স্থানীয় দলীয় কার্যালয় এবং তার সামনের খাঁন বস্ত্রালয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে তল্লাশি চালায় পুলিশ ও প্রশাসন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জামালপুরের বিডিও এবং স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার। তল্লাশিতে কী উদ্ধার হলো? প্রশাসন সূত্রের খবর, খাঁন বস্ত্রালয়ের তালা খুলে তল্লাশি চালানোর সময় সেখানে কোনও বস্ত্রসামগ্রী পাওয়া যায়নি। পরিবর্তে, সারি সারি করে রাখা অবস্থায় প্রায় দেড় হাজার সরকারি ত্রাণের ত্রিপল উদ্ধার হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ওই সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এরপর মেহেমুদ খাঁনের দলীয় কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ত্রাণ হিসেবে ব্যবহৃত কম্বল ও বিছানার চাদর-সহ একাধিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ জড়ো হন এবং অভিযানের পুরো প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন। মেহেমুদ খাঁন পলাতক, একাধিক অভিযোগের তদন্তস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে খাঁন বস্ত্রালয় ছিল মেহেমুদ খাঁনের জীবিকার প্রধান উৎস। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং এরপর থেকে দোকানটি আর নিয়মিত খোলা দেখা যায়নি বলে এলাকার একাংশের দাবি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুরে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই মেহেমুদ খাঁন প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ইতিমধ্যেই জামালপুর থানায় জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ তাঁর সন্ধান চালাচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ এই ঘটনায় তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার। তাঁর অভিযোগ, সরকারি ত্রাণ প্রকৃত প্রাপকদের হাতে না পৌঁছে দলীয় কার্যালয় এবং নেতাদের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে মজুত করে রাখা হয়েছিল।

See also  হাসিমুখে ভরল শিশু-আলয়ের দিন!রোটারি ক্লাবের ‘সক্ষম অঙ্গনারী মিশন’-এ খুশির রঙ ছোট্টদের জীবনে!

অরুণ হালদার বলেন, “যে ত্রাণ গরিব মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা বছরের পর বছর ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। তৃণমূল আমলের নানা অনিয়মের মধ্যে এটিও একটি বড় উদাহরণ।” তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্যমেহেমুদ খাঁনের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জামালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি দাবি করেছেন, অবিতরিত ত্রাণসামগ্রীর বিষয়টি তিনি আগেই প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং বিডিওকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল যে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা সম্ভব হয়নি এবং সেগুলি মজুত রয়েছে। প্রশাসনকে সেই সামগ্রী উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল। প্রশাসন আজ সেই পদক্ষেপ নিয়েছে।” পূর্বস্থলী দক্ষিণেও উদ্ধার ত্রাণসামগ্রী একই দিনে পূর্ব বর্ধমানের হেমাতপুর এলাকায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পূর্বস্থলী দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন দেবনাথের দলীয় কার্যালয়েও পুলিশ ও প্রশাসনের তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

জানা গিয়েছে, বিতরণ না হওয়া ত্রাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্বপন দেবনাথও সংশ্লিষ্ট বিডিওর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে এই ঘটনাকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পূর্বস্থলী দক্ষিণের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার অভিযোগ করেন, তাঁকে না জানিয়েই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট থানার আইসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি জামালপুর ও পূর্বস্থলীর এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী কীভাবে দলীয় কার্যালয় বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে মজুত ছিল, তা নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, বিতরণ না হওয়া ত্রাণসামগ্রী প্রশাসনকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে।এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি