উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,বারুইপুর: পুলিশের ভয়ে একেবারে।গ্রাম শূন্য বারুইপুরের সূর্যপুর। বারুইপুরের অশান্তি, গণপিটুনির ঘটনাতেও কেউ ছাড় পাবেন না বলে মঙ্গলবারই বারুইপুরে এসে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।আর তার পরে সে দিন থেকেই নাবালিকা ছাত্রী কে গণধর্ষণ ও খুনের পরে গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া অ্যাকশনে নামে প্রশাসন। পর পর দু’দিন রাতভর তল্লাশি চালিয়ে মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নতুন করে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে।ধৃতদেরকে বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ।মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নেয় বারুইপুর জেলা পুলিশ। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার সময়কার বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ খতিয়ে দেখে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিয়ো ক্লিপ খতিয়ে দেখে হামলার সঙ্গে যুক্ত বাকিদের চিহ্নিত করে পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে রাতভর চলে তল্লাশি। গোলমালের ঘটনায় বুধবারই ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাতে আরও ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাঁদের নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এই নিয়ে গোলমালের ঘটনায় মোট ৪০ জন অভিযুক্ত ধরা পড়লেন তদন্তকারীদের হাতে।বসিরহাট থেকে গ্রেফতার হওয়া গণ ধর্ষণ ও খুন কান্ডে আর এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেন পুলিশ।গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়ার পরে থেকেই গোটা এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর ফলে শিয়ালদহ নামখানা শাখায় ট্রেন চলাচল এবং স্থানীয় যানচলাচল দীর্ঘক্ষণ সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। উত্তেজিত জনতা মূল অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক স্থানীয় যুবককে বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করে।
গণপিটুনির জেরে ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়।পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায় যে, মৃত ওই যুবক নির্দোষ ছিলেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পরে ক্ষুব্ধ জনতা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ও কাচের বোতল ছুড়তে শুরু করে। পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।এই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী এবং সুরক্ষাকর্মী জখম হন।ভাঙচুর চালানো হয় সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্প ও।এই কাজে যুক্ত থাকার ব্যাপারে ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়ে গেছে বলে মঙ্গলবারই বারুইপুরে এসে জানান মুখ্যমন্ত্রী।আর তাঁরই ধাপে ধাপে গ্রেফতার করা চলছে।আর গ্রেফতারী আটকাতে তাই পুরুষ শূন্য এখন সূর্যপুর গ্রাম এলাকা।আতঙ্কে দোকান বাজার বন্ধ। থমথমে অবস্থা এলাকার।








