
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই এই গ্রেফতারি হয়। একই মামলায় শিশুসন্তানের দেখভালের বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁর স্ত্রী তথা রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর আবেদন মঞ্জুর হয়নি।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জমি দখল, আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি এবং আয়বহির্ভূত সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, নিজের ও ঘনিষ্ঠদের নামে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১০০ কোটিরও বেশি হতে পারে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন নথি, সম্পত্তির হিসাব এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রাজনৈতিক মহলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর উত্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে বিধাননগর পুরভোটে দলীয় টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন। পরবর্তীতে তৃণমূলে ফিরে যুব সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেন এবং ধীরে ধীরে দলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রাজনৈতিক সূত্রের একাংশের দাবি, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অদিতি মুন্সি রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে দেবরাজ চক্রবর্তীর সক্রিয় প্রভাব ছিল।
তদন্তে বেনামি সম্পত্তি, আত্মীয়দের নামে সম্পদ রাখা, সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য গোপন করা এবং একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। পাশাপাশি, এই মামলায় আরও কয়েকজনের সম্ভাব্য ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত তদন্তে দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল। তবে বর্তমান ও পূর্ববর্তী সমস্ত অভিযোগই এখনও তদন্তাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কোনও অভিযোগই আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না।











