উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, মথুরাপুর : রাজ্যে পালাবদলের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল গেল বিজেপির হাতে। মঙ্গলবার অনাস্থা ভোটে জয়ী হয়ে ফের পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্ব পেলেন বিজেপির সুশান্ত মণ্ডল।এদিন পঞ্চায়েতের সামনে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে নতুন করে প্রধান গঠন হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে প্রধান হয়ে ছিলেন সুশান্ত মণ্ডল।পরে তাঁকে সরিয়ে তৃণমূলের প্রশান্ত হালদারকে প্রধান করা হয় বলে অভিযোগ বিজেপির। সেই সময় সুশান্তকে নানা ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল বলেও দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।

এরপর পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে থাকে। মঙ্গলবার অনাস্থা ভোটে জয়ী হয়ে ফের প্রধানের পদে বসেন সুশান্ত।এদিনের ঘটনা ঘিরে পঞ্চায়েত চত্বরে ছিল টানটান উত্তেজনা। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। অনাস্থা ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।ঘটনার আরও একটি রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এতদিন পঞ্চায়েতের ক্ষমতা তৃণমূলের হাতে ধরে রাখতে সক্রিয় ছিলেন এলাকার তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার। কিন্তু মঙ্গলবারের অনাস্থা ভোটের পর তাঁকেই বিজেপি সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বিজেপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গেরুয়া ফোঁটা পরে লাড্ডু বিতরণ করে নতুন প্রধান ও সদস্যদের স্বাগত জানান তিনি—এমনই দাবি স্থানীয়দের একাংশের।একই সঙ্গে তৃণমূলের সদস্যদের থেকে তাঁর দূরত্বের ছবিও এদিন রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। ফলে কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দখলবদলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবারের ঘটনাই যেন ফের মনে করিয়ে দিল—রাজনীতিতে সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না।









