আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

লাঠির ভরসায় হিয়ারিং লাইনে অসুস্থ ভোটার! নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ, কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে অপার্থিব

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা–১ ব্লক অফিসে চলা ভোটার হিয়ারিং ঘিরে চাঞ্চল্যকর ও মানবিকতাবিরোধী ছবি সামনে এলো। সোমবার লাঠির ভরসায় কোনওরকমে হেঁটে হিয়ারিং লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেল এক অসুস্থ মহিলাকে। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে বাড়িতে গিয়ে হিয়ারিং করা হলো না, তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। ঘটনাটি পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ১৯১ নম্বর পাটের ভোটার, নান্দাই দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছরের সুমতি বারুইকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না বলে দাবি তাঁর পরিবারের। সুমতি বারুই জানান, নিজের শারীরিক অবস্থার কথা আগেই সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, হিয়ারিংয়ের জন্য ব্লক অফিসে উপস্থিত থাকতেই হবে। বাধ্য হয়েই তাঁকে গাড়িতে করে কালনা–১ বিডিও অফিসে নিয়ে আসা হয়।

ব্লক অফিস চত্বরে লাঠির ভরসায় ধীরে ধীরে হিয়ারিং লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা পৌঁছতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ, এরপর আধিকারিকরা তাঁকে গাড়িতে বসা অবস্থাতেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করিয়ে নেন। এদিন সুমতি বারুইয়ের ছেলে জানান, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং সবসময় অন্যের সাহায্য ছাড়া চলা অসম্ভব। এই অবস্থার কথা বিএলও-কে জানানো সত্ত্বেও হিয়ারিংয়ে হাজির হতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএলও দেবাশীষ ঘোষ মৌখিকভাবে জানান, প্রথমে ওই মহিলার অসুস্থতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা যায়নি এবং গোটা বিষয়টি একটি ‘মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং’। তিনি দাবি করেন, ব্লক অফিসে আসার পর সমস্ত প্রক্রিয়া ওই মহিলা গাড়িতে বসেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন ফোনে জানান, কেউ অসুস্থ হলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর হিয়ারিং বাড়িতেই হওয়ার কথা। কেন এই ঘটনায় তার ব্যতিক্রম হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। তাঁর বক্তব্যে ছিল প্রবল ক্ষোভ ও আক্রোশ। তিনি বলেন, “এটা কোনও ভুল বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক নির্মমতার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা দলীয়ভাবে বারবার বলছি—এই কমিশন মানুষের পক্ষে নয়, মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছে। অসুস্থ, হাঁটতে অক্ষম একজন মহিলাকে লাঠির ভরসায় হিয়ারিং লাইনে দাঁড় করানো মানে চূড়ান্ত অমানবিকতা।

See also  বাঙালির “ভ্যালেন্টাইনস” সপ্তাহ

এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটা পরিকল্পিত অত্যাচার। নির্বাচন কমিশন আজ গণতন্ত্রের রক্ষক নয়, গণতন্ত্রের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এভাবে মানুষকে হেনস্থা করে, মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে দিয়ে কমিশন কার্যত মানুষ মারছে”। এই ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং মানবিকতার প্রশ্নে জেলা জুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি