প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের স্বস্তি দিতে নির্বাচন কমিশন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআরআই সংক্রান্ত শুনানির ব্যবস্থা করার স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে কোনওরকম অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যখন এই বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া চলছে, তখন পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে গুরুতর প্রশ্ন।
বুধবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় একাধিক ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে বলেই অভিযোগ। একদিকে, মৃগী রোগে আক্রান্ত এক অসুস্থ ব্যক্তিকে এসআরআই কেন্দ্রে হাজির হতে বলা হয়। কেন্দ্রে পৌঁছনোর পরই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই দৃশ্য ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অন্যদিকে, জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এক যুবককেও ডেকে পাঠানো হয় এসআরআই কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ওই যুবকের বাড়ি বর্ধমান শহরের রূপমহল সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায়।
এসআরআই কেন্দ্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবন্ধী যুবকের বাবা স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর তরফে তাঁদের কোনওরকমভাবে জানানো হয়নি যে অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, “২০০২ সাল থেকে আমার ছেলের নাম ভোটার তালিকায় নেই। সেই কারণে আমাদের কেন্দ্রে আসতে হয়েছে। এই যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে আমার ছেলের। একজন বাবা হিসেবে এই দৃশ্য সহ্য করা সত্যিই কঠিন”। নির্বাচন কমিশনের মানবিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের এসআরআই কেন্দ্রে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। এই ঘটনাগুলি কি শুধুই গাফিলতি, না কি ব্যবস্থাপনার গুরুতর ত্রুটি—তা নিয়েই এখন সরব সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজ।








