কলকাতা :-সাইকেল শুধু একটি বাহন নয়, এটি সুস্থ জীবনযাপন, পরিবেশ রক্ষা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। সেই বার্তাকেই আরও একবার সামনে এনে বুধবার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে নিজেই সাইকেল চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছে অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই পদক্ষেপ শুধু নজরই কাড়েনি, বরং সাধারণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে। বুধবার সকালে ক্রীড়ামন্ত্রী সাইকেলে চেপে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে রওনা দেন। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সাধারণ মানুষের মতো সাইকেল চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছন তিনি।

সেখানে পৌঁছে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে সাইকেল ও গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, “জ্বালানি বাঁচানো দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। আমরা যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে সাইকেল কিংবা গণপরিবহনকে বেশি গুরুত্ব দিই, তাহলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। একইসঙ্গে পরিবেশও দূষণমুক্ত থাকবে”। চিকিৎসক হিসেবেও পরিচিত ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, সাইকেল চালানো শরীরচর্চার অন্যতম সেরা উপায়। নিয়মিত সাইকেল ব্যবহার করলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা-সহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। ব্যস্ত জীবনে আলাদা করে শরীরচর্চার সময় না পেলেও সাইকেল ব্যবহার করলে দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই স্বাস্থ্যচর্চা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির তুলনায় সাইকেল ও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেন। এর ফলে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় হয়, তেমনই পরিবেশও অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন থাকে। আমাদের দেশেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।ক্রীড়ামন্ত্রীর মতে, সাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন অর্থ সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। অর্থাৎ একটি উদ্যোগ থেকেই একাধিক সুফল পাওয়া যায়। তাই তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের কাছে সাইকেল ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
এদিন তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পথচলতি মানুষ, ক্রীড়াপ্রেমী এবং পরিবেশ সচেতন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন মন্ত্রীর এই ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং আরও অনেককে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করবে। সুস্থ শরীর, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর এই সাইকেল যাত্রা নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নতুন করে ভাবতে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।











