কলকাতা: রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বেতন, ভাতা বা সাম্মানিক প্রাপ্ত কর্মীদের বাড়িতে ‘স্মার্ট মিটার’ বসানো বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। সম্প্রতি প্রকাশিত এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই এর বিরোধিতা করেছে।

এই বিষয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, সরকারি কর্মচারীরাও দেশের সাধারণ নাগরিক এবং তাঁদের নিজস্ব অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অনুরোধ বা সচেতনতামূলক প্রচারের পরিবর্তে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তিনি আরও দাবি করেন, নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে এই বিষয়ে উদ্যোগী হওয়া উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের বৈঠক ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছিল। সেই বৈঠকের পর আসন্ন বাজেটে ডিএ সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত মিলেছিল বলে দাবি করা হয়। তবে স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রাজ্য সরকার ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সেই সাময়িক সৌহার্দ্যের পরিবেশে কি এবার ভাটা পড়তে চলেছে?
পাশাপাশি ভোটের আগে বিরোধীদের তরফে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে স্মার্ট মিটার স্থাপন নিয়ে প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মতপার্থক্য আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর থাকছে সংশ্লিষ্ট মহলের।










