বালির লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠল খণ্ডঘোষ ব্লকের গোপালবেড়া গ্রাম। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রকল্পের আওতায় বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে বর্তমান বাজারদরে বালি কেনা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই বালিবোঝাই ট্রাক্টর আটকে দিয়ে রাস্তা অবরোধে সামিল হন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালবেড়া গ্রাম থেকে মাত্র ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া জেলার নাগাতেঁতুল এলাকায় একটি ট্রাক্টর বালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকায়। অথচ খণ্ডঘোষ ব্লকের গোপালবেড়া এলাকায় একই পরিমাণ বালির জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। এত বিশাল মূল্যবৈষম্য নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মুনাফালোভী মানসিকতার কারণেই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। ফলে যাঁরা সরকারি আবাসন প্রকল্প বা অন্যান্য বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, তাঁদের পক্ষে নির্ধারিত টাকার মধ্যে বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক আন্দোলনকারী জানান, “সরকার বাড়ি তৈরির জন্য যে টাকা দেয়, তার বড় অংশই এখন শুধু বালি কিনতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। বাকি নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য আর পর্যাপ্ত অর্থ থাকছে না। নাগাতেঁতুলে যেখানে ১২০০ টাকায় বালি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে আমাদের এলাকায় কেন ৬ হাজার টাকার বেশি দিতে হবে? এর উত্তর প্রশাসনকে দিতে হবে”।
বিক্ষোভকারীরা আরও দাবি করেন, বালির দামের উপর প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হোক। পাশাপাশি অবিলম্বে এই মূল্যবৈষম্যের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
তবে গ্রামবাসীদের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, বালির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। বর্তমানে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।










