প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় – বর্ধমান- ১ জুন:- রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রীর বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের পার্টি অফিসে পুলিশ তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হল আগ্নেআস্ত্রের একাধীক কার্তুজ। এই
ঘটনা জানাজানি হতেই সোমবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার কামারহাটি গ্রামে। পুলিশের দাবি,রায়না ২ ব্লকের গোতান অঞ্চলের কামারহাটি গ্রামে তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে মোট ৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে।তার পরই ওই পার্টি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা টিয়া মজুমদার নামে এক অভিযুক্তকে পাকড়াও করা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। যে আগ্নেআস্ত্রে ব্যবহারের জন্য ওই কার্তুজ মজুত করা হয়েছিল আগ্নেআস্ত্রের হদিশ পেতে এখন মরিয়া পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ,রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বাড়ি রায়নার কামারহাটি গ্রামে। মন্ত্রী মশাইয়ের বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার দূরে তৃণমূলের পার্টি অফিসটি রয়েছে। তৃণমূলের রাজত্বে দলের তাবড় নেতা কর্মীদের আসা যাওয়া ওই পার্টি অফিসে লেগে থাকতো । ২০২৬ শের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি হওয়ার পর থেকে ওই পার্টি অফিসের দিকে দলের নেতা বা কর্মী কেউ আর পা বাড়ান নি । পার্টি অফিসটি তালা চাবি বন্ধ হয়েই পড়েছিল ।
এদিন সকালে কামারহাটি গ্রামের বাসিন্দা তাপস বাগকে গ্রামের কয়েকজন তৃণমূলের ওই পার্টি অফিসে কার্তুজ দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা জানায়। বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাপস
বাগ মাঢবডিসি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ পেয়েই নড়ে চড়ে বসে মাধবডিহি থানার পুলিশ। বিকালে লোকাল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে রায়না ১ ব্লকের বিডিও শুভাশীষ রায় এবং মাধবডিহি থানার ওসি রাজেশ মাহাতোর নেতৃত্বে পুলিশ ওই পার্টি অফিসের দরজার তালা খুলে তল্লাশি চালায়।তল্লাশির এই গোটা প্রক্রিয়া ভিডিও গ্রাফি করা হয়। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ )
অভিষেক মণ্ডল জানায়েছেন,ওই পার্টি অফিস থেকে ৬ রাউণ্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। তবে কোন আগ্নে আস্ত্র পাওয়া যায় নি। কার্তুজ উদ্ধার কাণ্ডে পার্টি অফিস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে পাকড়াও করা হয়েছে। কারা কি উদ্দেশে পার্টি অফিসে কার্তুজ মজুত করেছিল তার সবিস্তার জানার চেষ্টা চলছে।

এদিকে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে কার্তুজ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়েই ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন ণব নির্বাচিত রায়নার বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র। তিনি বলেন,“এই কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনাই প্রমাণ করছে রাজ্যে এবারও যদি তৃণমূল ক্ষমতায় আসত, তাহলে রায়নায় একাধিক খুনের ঘটনা ঘটতো।” পাশাপাশি তিনি রায়না ২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতিকে খুঁজে বের করার দাবিও তোলেন। তিনি বলেন পুলিশ যেন দ্রুত রায়না ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি শেখ কলিমুদ্দিন ওরফে বাপ্পাকে খুঁজে বের করে এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে।







