প্রখর রোদ, অসহনীয় তাপমাত্রা এবং ভ্যাপসা গরমে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা জেলার সর্বত্র। সকাল গড়াতেই আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। তীব্র দাবদাহে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। ঘর থেকে বেরোলেই যেন গায়ে আগুনের ঝাঁজ লাগছে। তারই মাঝে গরমের তীব্রতা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে মানুষ যেমন নানান উপায় খুঁজছেন, তেমনই পশুরাও খুঁজে নিচ্ছে নিজেদের বাঁচার রাস্তা। আর সেই ছবিই এখন ধরা পড়ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সহ খণ্ডঘোষ থানা অধীন আড়িন গ্রামে।

গ্রামবাংলার একাধিক এলাকায় দেখা যাচ্ছে, গরু-মোষ সহ গবাদি পশুরা দীর্ঘক্ষণ ধরে পুকুর, খাল কিংবা জলাশয়ের জলে দাঁড়িয়ে বা ডুবে রয়েছে। কোথাও শুধু মাথা বাইরে রেখে শরীরের বাকি অংশ জলের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে মোষের দল, কোথাও আবার গরুরা জলের ধারে ভিড় জমিয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে শরীরকে ঠান্ডা রাখতেই পশুরা এই উপায় বেছে নিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই দৃশ্য এখন গ্রামীণ এলাকার এক পরিচিত ছবি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, গত কয়েকদিন ধরে জেলার তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে মানুষ তো বটেই পশুপাখিরাও চরম কষ্টে রয়েছে। দুপুরের দিকে মাঠে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, রোদ এতটাই তীব্র যে বেশিক্ষণ মাঠে গবাদি পশু নিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনেকেই পশুদের পুকুরে নামিয়ে দিচ্ছেন, যাতে তারা কিছুটা স্বস্তি পায়। বিশেষ করে মোষদের দীর্ঘক্ষণ জলে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কারণ শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমাতে জলের বিকল্প নেই।
পশুপ্রেমীদের একাংশের বক্তব্য, এই সময় শুধু মানুষ নয়, পশুদের প্রতিও বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রচণ্ড গরমে পশুদের শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানীয় জল, ছায়াযুক্ত জায়গা এবং ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন পশুচিকিৎসকেরা। অনেক এলাকায় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো গরু-কুকুরদের জন্য জল রাখছেন। কেউ কেউ বাড়ির সামনে বড় পাত্রে জল ভরে দিচ্ছেন যাতে অবলা প্রাণীরাও একটু স্বস্তি পায়। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিও বাড়ছে। ফলে দিনের বেলায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে এই অসহনীয় গরমের মধ্যেও গবাদি পশুদের জলে আশ্রয় নেওয়ার দৃশ্য যেন এক অন্য বার্তা তুলে ধরছে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, জীবজগতের টিকে থাকার লড়াই এবং গরমের বিরুদ্ধে প্রাণীদের নীরব সংগ্রামের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে এই দৃশ্যে।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এমন একাধিক ছবি ও ভিডিও। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “মানুষের মতো পশুরাও যে কষ্ট অনুভব করে, এই ছবিগুলো সেটাই মনে করিয়ে দেয়।” আবার কেউ লিখেছেন, “তীব্র গরমে শুধু নিজেদের নয়, পশুপাখিদের কথাও ভাবুন”।দাবদাহের এই কঠিন সময়ে গ্রামবাংলার পুকুরে জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গবাদি পশুর ছবি যেন একদিকে প্রকৃতির নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে মানবিকতারও এক নিঃশব্দ বার্তা।










