উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনারপুর : আর কয়েকদিন পর রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন।এই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট এখনও প্রকাশ হয়নি।শাসক তৃণমূল সহকোনো দলের প্রার্থী তালিকাও এখনো ঘোষিত হয়নি।আর এরই মাঝে সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক অভিনেত্রী লাভলি মৈত্রের সমর্থনে দেওয়াল লেখার কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন তাঁর অনুগামীরা।
সোমবার রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অরুন্ধতী মৈত্রকে (লাভলি) সম্ভাব্য তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে তৃণমূল কর্মীদের দেওয়াল লিখতে দেখে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।যদিও তা জানাজানি হতেই লাভলির নাম মুছে দেওয়াল নতুন করে চুনকাম করে দেওয়া হয়।তবে এ ব্যাপারে যদি ও লাভলির দাবি, নতুন করে কিছু লেখা হয়নি। অনেক আগেই আমার নাম লেখা ছিল।সেগুলি চুন দিয়ে মুছে আসন্ন ভোটের জন্য দেওয়াল প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে।
প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগে এ ভাবে কারও নাম লেখার ধৃষ্টতা আমাদের কারও নেই।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ,এ দিন সোনারপুর দক্ষিণের রূপনগর এলাকায় দেওয়াল লেখার সময় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা অতি উৎসাহে বর্তমান বিধায়ক লাভলিকে আসন্ন বিধানসভার ভোটের প্রার্থী হিসাবে উল্লেখ করেন। সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ২০২১ সালে প্রথম বার সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক হন লাভলি মৈত্র। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির তারকা প্রার্থী অঞ্জনা বসুকে হারান ২৬১৮১ ভোটে।
বেশ কয়েকবার দলীয় কোন্দলের জেরে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে এই কেন্দ্র। এবার লাভলি এই কেন্দ্র থেকে টিকিট পাবেন নাকি নতুন কোন কেন্দ্রে দাঁড়াবেন সেসব ঘোষনা হওয়ার আগেই এই দেওয়াল লিখন চাঞ্চল্য ছড়ায়।দলীয় সূত্রে খবর,রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকটি দেওয়াল চুনকাম করার কাজ করছিলেন কিছু কর্মী সমর্থক।এই চিহ্নে ভোট দিন লিখে তৃণমূলের প্রতীক এঁকে প্রস্তুত করা হয় দেওয়াল। সেই কাজ করতে গিয়েই একটি দেওয়ালেতে বিধায়কের নাম লেখা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এখনো তো প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি,তাহলে কী করে নাম লিখে দেওয়া হল? যাঁরা বিধায়কের নাম লিখলেন, তাঁরা কি কারোর নির্দেশে সেটা করেছেন, সেই প্রশ্নও কিন্তু উঠছে।এ ব্যাপারে তৃণমূলের যাদবপুর ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, কিছু অতি উৎসাহী কর্মী এই কাজ করে ফেলেছেন। কারণ এখনও দলের তরফে কোনো নির্দেশ বা কিছু দেওয়াই হয়নি।
বিজেপি অবশ্য এই ঘটনাকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হিসাবে দেখছে।বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, নাম লিখে আবার মুছে দেওয়া হল,এটা ওদের অভ্যন্তরীণ বিবাদ থেকেই হয়তো হয়েছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন,তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ঘোষনা করার আগেই কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে দেওয়াল দখল ও লিখন চলছে।লাভলির নাম লিখে দেওয়ার পর সেটা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি।
তাই পরে সেটা মুছে ফেলতে হয়েছে।তৃণমূলে সবই সম্ভব।কয়েকদিন আগে কুলতলিতে অতি উৎসাহে তৃনমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা বিধায়ক গনেশ চন্দ্র মন্ডলের নামে লিখে ফেলেন দেওয়াল।পরে অবশ্য জানাজানি হতে মুছে ফেলা হয় প্রার্থীর নামের জায়গাটি।








