তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন, জনদরদী সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে ‘সংকল্পপত্র’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির টুইটে জানানো হয়েছে, এই সংকল্পপত্র যেন শুধুমাত্র দলের দলিল না হয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ‘সংকল্পপত্র পরামর্শ অভিযান’।
টুইটে আরও বলা হয়, কৃষক, শ্রমিক, যুবক-যুবতী, মহিলা, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী—সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নিয়ে আগামী দিনের পশ্চিমবঙ্গের রূপরেখা তৈরি করা হবে। ১৮ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ড্রপবক্স রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম।
অপার্থিব ইসলাম বলেন, “সংকল্পপত্রের নামে বিজেপি আসলে আবারও পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। যে দল দেশজুড়ে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষক সংকট ও সামাজিক বিভাজনের জন্য দায়ী, তারা বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছে—এটাই সবচেয়ে বড় পরিহাস”।
তিনি আরও বলেন, “বিজেপি যদি সত্যিই জনদরদী সরকার গঠনের কথা ভাবে, তাহলে আগে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর দিকে তাকাক—সেখানে কৃষকের দুর্দশা, যুবসমাজের বেকারত্ব আর আইনশৃঙ্খলার কী অবস্থা, তা দেশের মানুষ জানে”।
রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অপার্থিব ইসলাম বলেন,
“পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী, খাদ্যসাথীর মতো প্রকল্প আজ দেশের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিজেপি এসব উন্নয়ন অস্বীকার করে শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাকে বদনাম করছে”।
‘সুশাসন’ শব্দটি ব্যবহার নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,
“যে দল ইডি-সিবিআই দিয়ে বিরোধী কণ্ঠ দমন করে, গণতন্ত্রকে ভয় পায়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করে—তারা আবার সুশাসনের কথা বলছে! বাংলার মানুষ এই ভণ্ডামি অনেক আগেই বুঝে গিয়েছে”। ড্রপবক্স কর্মসূচি প্রসঙ্গে তাঁর কড়া মন্তব্য, “বিজেপির ড্রপবক্সে মানুষের আশা জমা পড়বে না, জমা পড়বে প্রত্যাখ্যান। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে না”।
সবশেষে অপার্থিব ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলার মানুষ জানে—কারা মানুষের পাশে থাকে আর কারা শুধু ভোটের সময় নাটক করে। বিজেপির সংকল্পপত্র নয়, বাংলার মানুষের আসল সংকল্প তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছে। আগামী দিনেও তৃণমূল সরকারই বাংলার উন্নয়নের দায়িত্বে থাকবে”।








