আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

ভোটের মুখে জেলা পার্টি অফিসে কর্মী সংকট, দুশ্চিন্তায় বঙ্গ বিজেপি

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। কোমর বেঁধে ময়দানে নামার বার্তা দিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। নেতা-কর্মীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে ‘এবার বাংলায় পদ্ম ফুটবে’—এই স্বপ্নের ছবি। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরেই।
কারণ, জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের আনাগোনা, ভোকাল টনিক ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ—সব কিছুই থাকলেও যে বিষয়টির অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে, তা হল সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি। বিভিন্ন জেলা পার্টি অফিসে এই ছবি সামনে আসতেই গেরুয়া শিবিরে উদ্বেগ বাড়ছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যাতায়াত বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা—একাধিক শীর্ষ নেতা ইতিমধ্যেই বাংলায় এসেছেন এবং আগামী দিনেও আসবেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় জেলা স্তরে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ক্রমেই কমছে।

এই প্রবণতা শুধু দক্ষিণবঙ্গেই নয়, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোচবিহারে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের ভিড় থাকলেও সাধারণ কর্মীদের দেখা মিলছে না জেলা পার্টি অফিসে। আলিপুরদুয়ারেও একই চিত্র। আবার বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার একাংশেও কর্মী উপস্থিতির অভাব স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলা পার্টি অফিসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাতে কতটা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে দলের অন্দরেই। দলীয় সূত্রের মতে, সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভই এই অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ।
এই প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য উল্লেখযোগ্য কোনও প্রকল্প বরাদ্দ হয়নি। অন্যদিকে রাজ্য বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একাধিক জনমুখী প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। তাঁর দাবি, এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে।

See also  ৫০ হাজার টাকা ICICI Bank-এর, অন্য ব্যাঙ্কে কত টাকা রাখতে হয়? জানুন মিনিমাম ব্যালেন্সের তথ্য…

তিনি আরও বলেন, এসআইআর ইস্যুতে বঙ্গ বিজেপির কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সেখানে বাংলার মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করতে দেখা গেছে। এই বিষয়গুলোই গ্রামবাংলার মানুষের মনে প্রভাব ফেলেছে। ফলে জেলা পার্টি অফিসের নির্দেশে মানুষের দুয়ারে গিয়ে প্রচারে নামতে গিয়ে বিড়ম্বনার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। সেই কারণেই সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা পার্টি অফিসে যাওয়া এড়িয়ে চলছেন বলে তাঁর দাবি।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে জেলা স্তরে সংগঠন চাঙ্গা করা নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে যে চিন্তা বাড়ছে, তা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি