পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের লক্ষীপুর পূর্ব আটপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক জনসভা থেকে বামফ্রন্ট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি বলেন, বামফ্রন্ট রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সিভিক ভলান্টিয়ারদের স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হবে এবং তাঁদের প্রাপ্য সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সভা থেকে তিনি আরও জানান, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ এলাকার মহিলাদের সার্বিক উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, বাম সরকারের আমলে চালু হওয়া বহু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম বদলে বর্তমান তৃণমূল সরকার সেগুলি চালাচ্ছে।
শতরূপ ঘোষের দাবি, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মতোই ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সিপিএম নেতা বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিজেপি একের পর এক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে—নোটবন্দি থেকে শুরু করে এনআরসি, আর বর্তমানে এসআইআর। সংখ্যার জোরে তারা যা খুশি করেছে, তার জবাব মানুষ সময়মতো দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকেও কাঠগড়ায় তোলেন শতরূপ ঘোষ।
সম কাজের জন্য সম মজুরি আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাইলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে এই আইন কার্যকর করতে পারত, কিন্তু তা করা হয়নি। এর দায় শাসক দলগুলিকেই নিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, শতরূপ ঘোষের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও খণ্ডন করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “ভোটের মুখে এলেই এ ধরনের নেতারা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন। সারা বছর এলাকায় তাঁদের দেখা মেলে না। এরা আসলে ভোটের মরসুমে উড়ে আসা পরিযায়ী পাখি”।
তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ খুব ভালো করে জানেন—কে সবসময় পাশে থাকে আর কে শুধুমাত্র ভোটের সময় দেখা দেয়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—সব পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলার মানুষের ভরসা। মানুষ দেখছেন, বুঝছেন এবং তার জবাবও দেবেন।” এই রাজনৈতিক তরজাকে ঘিরে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।








