রবীন্দ্র সংগীত ও শ্যামা সঙ্গীতের আবহে এবার ডিজের তালে তালে রাজনৈতিক লড়াই— এমনই ব্যতিক্রমী বার্তা উঠে এল খণ্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রাম অঞ্চলের আমরাল গ্রামের সভামঞ্চ থেকে। রাজনৈতিক সভার মঞ্চে সংস্কৃতি ও প্রতিবাদের এই মেলবন্ধনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি ও সিপিআইএমকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন খণ্ডঘোষ ব্লক সভাপতি মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অপার্থিব ইসলাম বলেন, এই সভায় যাঁদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, তাঁরা মা-বোনেরা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কারণে সবচেয়ে বেশি অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন নারীরাই। প্রায় ৮০ বছর আগে দেশ স্বাধীন হয়েছে, অথচ আজ সাধারণ মানুষকে প্রমাণ দিতে হচ্ছে— তাঁরা আদৌ ভারতীয় কিনা! তাঁর অভিযোগ, দেশের শাসকগোষ্ঠী মানুষের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এতদিন কি কাউকে কখনও বলা হয়েছিল— তুমি ভারতীয় কিনা প্রমাণ দাও? কারও ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে হবে— এমন কথা কি আগে কেউ বলেছিল? কখনও নয়। আজ এই ‘জংলা পার্টি’ বিজেপি সেই ভাষাতেই কথা বলছে”। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই অপদার্থ দলের জন্য আজ সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাটাই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
এস আই আর (SIR) প্রসঙ্গ তুলে ব্লক সভাপতি অভিযোগ করেন, ভোটারদের হয়রানি করার জন্য একের পর এক অদ্ভুত ও অবাস্তব যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক বেশি, কখনও আবার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে— এক বাবার একাধিক সন্তান কেন। এই প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ খুব সম্ভবত ২০২৫ সালের অক্টোবর বা নভেম্বরে বিবাহ করেছেন। দিলীপ ঘোষের জন্ম ১৯৬৪ সালে, আমারও জন্ম ১৯৬৪ সালে। আমি আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৬৩ বছরে পা দেব। ধরুন দিলীপবাবু ৬২ বছর বয়সে বিয়ে করলেন, আর এক বছর পরে তাঁর সন্তান হল— তাহলে সন্তানের সঙ্গে বাবার বয়সের ফারাক দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ বছর। এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কী বলবে”?
এখানেই থামেননি অপার্থিব ইসলাম। তিনি আরও বলেন, “যাঁরা এই আইন তৈরি করছেন, সেই নরেন্দ্র মোদিরাই তো পাঁচ ভাই এক বোন। তাহলে তাঁর বাবাকে কি কোনও দিন জেসিপি করে এনে প্রশ্ন করা হয়েছিল”? এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজেপির নীতি, দ্বিচারিতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে সিপিআইএমকেও একহাত নেন ব্লক সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ও সিপিআইএম— দুই দলই সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। একদিকে বিজেপি মানুষকে দেশছাড়া করার ভয় দেখাচ্ছে, অন্যদিকে সিপিআইএম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলেই অভিযোগ তাঁর।
এদিনের সভা থেকে অপার্থিব ইসলাম দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফল বেরোলেই শুধু রবীন্দ্র সংগীত বা শ্যামা সঙ্গীত নয়, মানুষের আনন্দ ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে ডিজের সুরও বাজবে। সংস্কৃতি, প্রতিবাদ ও রাজনীতির এই মেলবন্ধনের মধ্য দিয়েই আগামী দিনে লড়াই আরও তীব্র হবে বলেও বার্তা দেন তিনি।
রবীন্দ্র সংগীত ও শ্যামা সঙ্গীতের সঙ্গে ডিজের সুর যেমন সভায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, তেমনই অপার্থিব ইসলামের আক্রমণাত্মক ও তীক্ষ্ণ বক্তব্য আমরাল গ্রামের সভামঞ্চে বাড়িয়ে দেয় রাজনৈতিক উত্তাপ।








