বাঁকুড়া জেলার দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের কথা জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ায় অনুষ্ঠিত দলীয় সাংগঠনিক বৈঠক থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই জেলার জলকষ্টপ্রবণ এলাকাগুলিতে টিউবওয়েল স্থাপন ও পানীয় জলের ট্যাঙ্কি তৈরির কাজ শুরু হবে।
বাঁকুড়ার একাধিক এলাকায় বছরের পর বছর ধরে পানীয় জলের তীব্র সংকট রয়েছে। গ্রীষ্মকাল এলেই সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের এই নিত্যদিনের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই ঘোষণায় জেলার মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানান, মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন—বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানীয় জল—নিশ্চিত করা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই টিউবওয়েল স্থাপন এবং পানীয় জলের ট্যাঙ্কি তৈরির মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে বেশি জলকষ্টে ভোগা এলাকা গুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাঁকুড়ার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, “সেবা, দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারই প্রকৃত নেতৃত্বর পরিচয়”—এই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করল এই ঘোষণা। এই প্রসঙ্গে শিক্ষক নেতা তথা পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনাবিল ইসলাম বলেন, “শুধু বাঁকুড়া নয়, গোটা রাজ্য জুড়েই উন্নয়নের এই ধারাকে সুসংহতভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলির স্থায়ী সমাধান করাই তাঁদের রাজনীতির মূল দর্শন”।
তিনি আরও বলেন, “পানীয় জল মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক অধিকার। বাঁকুড়ার মতো জলকষ্টপ্রবণ জেলায় দুই মাসের মধ্যে টিউবওয়েল ও জলের ট্যাঙ্কি তৈরির ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে”। অনাবিল ইসলাম জানান, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার যেভাবে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই উন্নয়নের ধারাকেই আরও গতিশীল করে তুলছেন। কথা দিয়ে কথা রাখা, মানুষের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখা এবং দ্রুত সমাধানের পথে হাঁটাই প্রকৃত জননেতৃত্বের পরিচয়। বাঁকুড়ার জলকষ্ট দূর করার এই উদ্যোগ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত”।








