ইন্দাস ব্লকের রোল গোপালনগর–চিচিঙ্গা–ফাটিয়া অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ৩৫তম রোল মিলনমেলার শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল রোল স্কুল মাঠে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও এই মিলনমেলাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা চোখে পড়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে সকাল থেকেই স্কুল মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেন আপামর জনসাধারণ। মেলার সূচনা হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। আদিবাসী নৃত্য, ধামসা-মাদলের তালে তালে এবং মহিলা ঢাকিদের বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে রঙিন শোভাযাত্রাটি গ্রামের রাস্তা পেরিয়ে মূলমঞ্চে এসে পৌঁছয়। এরপর ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়।
জাতীয় পতাকা ও মেলার পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি গ্যাস বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মেলার শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের মঞ্চে বিশিষ্ট অতিথিদের চন্দনের ফোঁটা, উত্তরীয় ব্যাজ ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এদিন মেলায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শেখ হামিদ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন রক্ষিত, শিক্ষা ও বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ মোল্লা নাসির আলী, জেলা পরিষদের দুই কর্মাধ্যক্ষ, রোল অঞ্চলের উপপ্রধান, এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রোল হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এরপর সকল অতিথি মিলে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করেন এবং উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে ৩৫তম বর্ষের রোল মিলনমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে মেলার ঐতিহ্য ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আগামী দিনে এই মেলাকে আরও বৃহত্তর আকারে গড়ে তোলার বার্তা দেন। এই মিলনমেলাকে ঘিরে শুধু রোল, গোপালনগর, চিচিঙ্গা ও ফাটিয়া গ্রামের মানুষই নন, ইন্দাস ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। কমিটির সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, মেলাটি টানা ছয় দিন ধরে চলবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মেলা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তা বহন করে। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে এই মিলনমেলাকে ঘিরে মিলিত আনন্দে অংশগ্রহণ করেন। ছয় দিন ধরে চলবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসায় মেলা প্রাঙ্গণ যেন এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।








