কয়লাকাণ্ডে রাজ্যে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় ইডি। একইসঙ্গে লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং পোস্তায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিন সকালে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। পরে সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
ইডির এই অভিযানের কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোর ছ’টা থেকে এমন সময় অভিযান চালানো হয়েছে, যখন অফিসে কার্যত কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, নির্বাচন ও এসআইআর সংক্রান্ত তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তথ্য ও নথি ইডি তুলে নিয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আইপ্যাক কোনও প্রাইভেট অর্গানাইজেশন নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অথরাইজড টিম। সেই টিমের কাছ থেকে সব কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, টেবিল ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সব শুরু করতে গেলে নির্বাচনই পেরিয়ে যাবে”।
তিনি এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটা একটা ক্রাইম। আমাদের সমস্ত নির্বাচনী কাগজ চুরি করা হয়েছে”। পাশাপাশি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সৌজন্যতা দেখাব, কিন্তু এটাকে আমার দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। আপনারা সব লুট করবেন আর আমি চুপ করে বসে থাকব—তা হবে না”। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইপ্যাকের অফিস থেকে কী কী নথি নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বিজেপিকে ‘ডাকাতের দল’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার সাহস নেই বলেই ইডিকে দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে”।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে থেকে গোটা রাজ্যে ব্লক, অঞ্চল ও ওয়ার্ড স্তরে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে রাস্তায় নামে তৃণমূল কংগ্রেস। বাদ যায়নি পূর্ব বর্ধমান জেলাও।
পূর্ব বর্ধমান জেলার শহর বর্ধমানে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের প্রথম সারিতে পা মেলান বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, প্রাক্তন জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু সহ জেলা নেতৃত্ব ও অসংখ্য কর্মী-সমর্থক। ইডির অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।








