আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

এসআইআর শুনানির নোটিশ ঘিরে আতঙ্ক! রেল লাইনে উদ্ধার প্রৌঢ়ার দেহ, মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর আতঙ্কে থাকা এক প্রৌঢ়ার মৃতদেহ উদ্ধার হলো রেল লাইন থেকে। মৃতার নাম ফুলমালা পাল (৫৭)। পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকার বৈকণ্ঠপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের রায়নগর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রেল লাইনের উপর তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান জিআরপি। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ফুলমালা দেবী।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর শুনানি পর্ব। জানা গেছে, ফুলমালা পালের স্বামী ও ছেলের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁর নিজের নাম তালিকায় ছিল না। শুধু এবারই নয়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল না বলে জানা যাচ্ছে। এই কারণে ফুলমালা পালের নাম ‘আনম্যাপিং’-এর আওতায় পড়ে এবং আগামী ৫ জানুয়ারি শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়।

মৃতার স্বামী সুনীল পাল জানান, কমিশনের নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী প্রবল আতঙ্কে ভুগছিলেন। ভারত থেকে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা তাঁর মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সেই আতঙ্কের কথা তিনি ভাগ করে নিয়েছিলেন। সুনীল পাল বলেন, “আমি ওকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, এসব কিছুই হবে না। কিন্তু ও দুশ্চিন্তা কাটাতে পারেনি।” শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে রেল লাইনে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন বলে পরিবারের দাবি।
মৃতার আত্মীয় নিমাই হালদার জানান, বর্ধমান জিআরপি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মৃতদেহ বাড়িতে ফেরে।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলমালা পালের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তৃণমূল ও বিজেপির চাপানউতোর। সমবেদনা জানাতে মৃতার বাড়িতে পৌঁছন বর্ধমান উত্তর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক, জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি রাসবিহারী হালদার সহ একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী। তাঁরা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর প্রক্রিয়াই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। তাঁদের দাবি, “এসআইআর বাংলার একের পর এক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।”

See also  বর্ধমানের ২ নং জাতীয় সড়কের শক্তিগড়ে পথ দূর্ঘটনায় মৃত্যু এক পুলিশকর্মীর।

অন্যদিকে জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তাঁর দাবি, এসআইআর আতঙ্কে নয়, পারিবারিক কারণে আত্মঘাতী হয়েছেন ফুলমালা পাল। তিনি বলেন, “মৃতার জামাই ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসআইআর আতঙ্কের গল্প সাজানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ রাস্তায় রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে তৃণমূল রাজনীতি করছে।”
এসআইআর শুনানি ঘিরে এই মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি