আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

তোষণ নয়, সম্প্রীতিই রাজনীতির পথ: দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাসে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা,বাংলা বরাবরই বহুত্বের দেশ-অপার্থিব

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ও দৃঢ় ভাষায় জানিয়ে দিলেন তাঁর রাজনৈতিক দর্শন। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, তিনি কোনওদিনই তোষণের রাজনীতি করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। ধর্মনিরপেক্ষতাই তাঁর আদর্শ, ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই রাজ্য শাসন পরিচালিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে বিভাজন তৈরি করার যে প্রবণতা, তা তিনি কখনওই সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা মানে রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধর্মের মানুষকে সমান চোখে দেখা। সেই নীতিতেই তাঁর সরকার আজ পর্যন্ত কাজ করেছে এবং আগামিদিনেও সেই পথেই চলবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুজো যেমন বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তেমনই ঈদ, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমা-সহ সমস্ত ধর্মীয় উৎসবই এই রাজ্যে সমান গুরুত্ব পায়। সরকার কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, সরকার বিশ্বাস করে মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিতে।
এই প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, বাংলা বরাবরই বহুত্বের দেশ। ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের সহাবস্থানই এই রাজ্যের প্রকৃত পরিচয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই বহুত্বের ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজনের রাজনীতি নতুন নয়, তবে বাংলার মাটিতে তা কখনওই স্থায়ী হয়নি।

তিনি বলেন, এ রাজ্যে ধর্ম কখনও রাজনীতির হাতিয়ার ছিল না। উৎসব এসেছে, উৎসব গিয়েছে—মানুষ একসঙ্গেই থেকেছে। দুর্গাপুজো যেমন বাঙালির প্রাণের উৎসব, তেমনই ঈদ, বড়দিন বা বুদ্ধপূর্ণিমাও সমানভাবে মানুষের জীবনের অংশ। সরকারিভাবেই সব ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের যে ঐতিহ্য, তা বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বারবার বলেছেন—ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, রাজনীতি তার ঊর্ধ্বে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনও ধর্মের প্রতি পক্ষপাত নয়, বরং সকলকে নিয়ে চলার মধ্যেই বাংলার শক্তি। এই সহাবস্থানের সংস্কৃতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবিক চেতনায় গড়ে উঠেছে এই বাংলা। রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল—সবাই সম্প্রীতির কথাই বলেছেন। আজও সেই পথেই হাঁটছে বাংলা।

See also  পূর্ব বর্ধমান জেলাপুলিশের বড়সড় সাফল্য, ধরা পরলো বাইক চুরির বড় চক্র

কিন্তু বাইরে থেকে এসে কেউ কেউ বাংলার এই ঐতিহ্য ভাঙার চেষ্টা করছে। বিভাজনের রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলার মানুষ জানে—বিদ্বেষ নয়, সম্প্রীতিই এই রাজ্যের আসল শক্তি। সংকীর্ণতার রাজনীতি বাংলা কখনওই মেনে নেয়নি। মানুষের পাশে থাকা, মানুষের ভাল থাকা—এই দুইয়ের মধ্যেই রাজনীতির সার্থকতা খুঁজে পায় এই রাজ্য। আর সেই কারণেই বারবার প্রমাণ হয়েছে, বাংলার মাটিতে বিভেদের রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না। এটাই বাংলার পরিচয়। এটাই বাংলার শক্তি।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি