সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলার শহর বর্ধমান যেন এক অমানবিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াল। SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) সংক্রান্ত শুনানিতে হাজিরা দিতে দেখা গেল এক চরম অসহায় পরিবারকে। যাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী—তবুও তাঁর জন্য কোনও ব্যতিক্রমী বা মানবিক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। ভোলা শেখ যার বাড়ি শহরবর্ধমানের মাঠপাড়ায়।একসময় ট্রেনের হকার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন ভোলা। দুর্ঘটনাই বদলে দেয় তাঁর জীবন। হকারির সময় ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে ভোলা শেখের বাঁ হাত ও বাঁ পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে দু’টি অঙ্গই কেটে ফেলতে হয়। সেই থেকে তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম। দৈনন্দিন চলাফেরাই যেখানে তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে SIR শুনানিতে সশরীরে হাজির হওয়া কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন অনেকেই।
অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভোলা শেখকে শুনানিতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনও মানবিক ছাড় বা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর কাঁধে ভর করেই তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হয়। একদিকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা—দু’য়ের চাপে ভেঙে পড়ছিল অসহায় পরিবারটি।
শুনানি কেন্দ্রে সেই দৃশ্য দেখে উপস্থিত বহু মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি, অনলাইন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে যাচাইয়ের মতো মানবিক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত কি না—সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
এই ঘটনাকে চরম অমানবিক বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন,
“এটা শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, মানবিকতার চরম অবমাননা। একজন শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী মানুষকে এভাবে শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা অমানবিক। এমন ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি বা অনলাইন ব্যবস্থার মতো মানবিক বিকল্প থাকা উচিত। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই যদি উদ্দেশ্য হয়, তবে এই প্রক্রিয়ার কোনও গ্রহণযোগ্যতা থাকে না”।








