রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের তীব্র মন্তব্য করলেন উত্তরবঙ্গের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান সাংসদ।
খগেন মুর্মু অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন একাধিক নৃশংস ঘটনা ঘটছে, যা এখন আর নতুন কিছু নয়। তাঁর কথায়, “ধর্ষণের মতো ঘটনা পশ্চিমবাংলায় প্রতিদিনকার। এটা নতুন নয়। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সবাইকে— সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তৃণমূল বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে—একজোট করে তৃণমূলকে এই রাজ্য থেকে উৎখাত করা”।
তিনি আরও বলেন, গত ১৪ বছরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ‘জঙ্গলের রাজত্ব’ কায়েম করেছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করাই তাঁদের প্রথম কাজ। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল যাতে একটিও আসন না পায়, সেই ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে। আমরা বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় নেমে প্রশ্ন করছি, প্রতিবাদ করছি—এবার সাধারণ মানুষকেও তৃণমূলের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করতে হবে”।
রাজনৈতিক মহলে আলোচিত ‘মমতা-মোদি সেটিং’ তত্ত্ব সম্পর্কেও মত প্রকাশ করেন খগেন মুর্মু। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ সিপিএমের বানানো গল্প। বছরের পর বছর ধরে এই কথা প্রচার করা হয়েছে। বাস্তবে কোনও সেটিং বলে কিছু নেই”।
এদিনের কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং এসআইআর সংক্রান্ত প্রশ্নে সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে খগেন মুর্মু দাবি করেন—২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই রাজ্যের মানুষ তৈরি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন তৃণমূলের জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। রাজনৈতিক আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের আবহে তিনি বলেন, বিজেপি এখন এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেন “গোয়ালে যাত্রা করার মতো পরিস্থিতি”। তাঁর মন্তব্যে শৈশবস্মৃতির উল্লেখ করে বলেন, “আমরা গ্রামের ছেলে।
ছোটবেলায় গ্রামে গ্রীষ্মের দুপুরে ঘুঁটের ছাই, লণ্ঠনের কালি মেখে তালপাতার অস্ত্র বানিয়ে গোয়ালে যাত্রা করতাম। আজ বিজেপির অবস্থাও ঠিক সেই রকম। দলটি সম্পূর্ণ মানসিক চাপে ভুগছে”। অপার্থিব ইসলাম দাবি করেন, বিজেপির বহু নেতা-কর্মীই এখন হতাশা ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। তিনি আরও বলেন, “যে সাংসদ আজ বড় বড় কথা বলছেন, কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যথেষ্ট সম্মান পেয়েছেন। তারপরও কেন এ ধরনের মন্তব্য করছেন, তা তাঁদের রাজনৈতিক নির্লজ্জতারই প্রমাণ”।
তৃণমূলকে ‘একটিও আসন পাওয়া উচিত নয়’—বিজেপি সাংসদের এমন মন্তব্যকেও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন অপার্থিব ইসলাম। তাঁর কথায়, “২০১৯-এ আমাদের জিরো বলেছিল, ২০২১-এ বলেছিল, ২০২৪-এ বলেছিল। প্রতিবারই ভুল প্রমাণ হয়েছে। তাই এখন এদের কথাকে গুরুত্ব দেওয়ারও প্রয়োজন নেই আমাদের”।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের বাকস্বাধীনতার অধিকারকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করেছেন। “আমাদের নেত্রী মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন—সাধারণ মানুষ থেকে পাগল-ছাগল সবাইকেই। বিজেপি নেতাদের এই ধরনের মন্তব্যকে আমরা কাউন্টার করতে চাই না, কারণ বিজেপি উনিশে বলেছিল ইস্কাবার চারশো পার, একুশে বলল ইস্কাবার দুশো পার, চব্বিশে বললো ইসকা বার চারশো পার, এরা সব পার করে দিয়েছে”!








