পূর্বস্থলীতে বিজেপির একজন BLA-র নামে নাকি দু’টি আলাদা ভোটার কার্ড! দুই কার্ডের EPIC নম্বরও আলাদা বলে অভিযোগ। এই ঘটনা সামনে আসতেই তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে — SIR-এর উত্তাপের মধ্যেই এমন ঘটনা কি ভুতুড়ে ভোটারের ইঙ্গিত? বিজেপি অবশ্য পাল্টা বলে দিয়েছে — দু’টি কার্ড থাকলেও ভোট তো দেওয়া হয় একটাই। এই ইস্যু ঘিরে দুই পক্ষের কথার লড়াই চড়েছে।
পাঁচলকি এলাকার ১১৭ নম্বর বুথের বিজেপির BLA — গৌরাঙ্গ হালদারকে নিয়েই এই বিতর্ক। অভিযোগ, তাঁর নাম ভোটার তালিকায় নাকি একবার ৪১৪ নম্বর পার্টে এবং আবার ৬৮০ নম্বর পার্টেও পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ একই নামে দুই জায়গায় নাম থাকায় দু’টি EPIC নম্বর দেখা গেছে। তৃণমূল সভাপতি সনাতন ঘোষ বলেন — “একই ব্যক্তির কীভাবে দু’টি ভোটার কার্ড?” তাঁর মতে, এভাবে হলে কেউ একাধিকবার ভোটও দিতে পারে। যেখানে বিজেপি SIR নিয়ে অত তেজ দেখাচ্ছে, সেখানেই তাদের নিজস্ব BLA-র যদি দু’টি কার্ড থাকে তাহলে সেটা অনুপ্রবেশকারীদের ওপর দোষ চাপানোর যুক্তি কোথায়?
এদিকে বিজেপির ওই BLA গৌরাঙ্গ হালদার নিজের পক্ষেই বলেন — “২০২৪ সালে এটি ছিল না। ২০২৫ সালে ভুল করে এটি চলে আসে”। তাঁর আরও দাবি — “আমার একটাই ভোটার কার্ড। আমি একবারই ভোট দিই। তৃণমূল যে অভিযোগ করছে তা মিথ্যা”
এই প্রেক্ষিতে মনে পড়ে — বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন অনলাইন ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির প্রসঙ্গ। তিনি বলেছিলেন — ‘নির্বাচন কমিশনের আশীর্বাদে ভোটার তালিকায় গরমিল করা হচ্ছে’। এমন অভিযোগের পরই ‘ভূতুড়ে’ ভোটার শনাক্তকরণের লক্ষ্যে সুব্রত বক্সিকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করেন মমতা। তাতে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। তাঁদের রিপোর্টও কমিশনে পাঠানো হয়।
যদিও কমিশনের বক্তব্য — “একই এপিক নম্বর থাকা মানেই ভুয়ো ভোটার নয়”। চাপের মুখে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানায় — ‘দুই বা ততোধিক ভোটারের একই এপিক নম্বর থাকতেই পারে’ কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা ভুয়ো। একাধিক শর্ত মিলিয়ে পার্থক্য করা যায়।
তবুও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে — বিজেপির একজন BLA-র নামে দু’টি ভোটার কার্ড কীভাবে তৈরি হল? এই নিয়েই দফায় দফায় চলছে তর্ক–বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন।








