উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি : রাজ্যে একাধিকবার রাজনৈতিক পালাবদল হলেও সুন্দরবনের কুলতলি বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই ছিল ব্যতিক্রমী।রাজ্যের শাসকদলের বিপক্ষে চলতো কুলতলি।স্বাধীনতার পর একবার কংগ্রেস জিতলেও, পরবর্তী তে কংগ্রেস ও বাম আমলে এই কেন্দ্র কার্যত এস ইউ সি আই এর দখলেই ছিল।
২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন সিপিআইএমের রামশংকর হালদার।ফলে কুলতলির বিশেষত্বই ছিল-রাজ্যে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এই কেন্দ্র তাদের নাগালের বাইরে থাকত।তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের গণেশচন্দ্র মণ্ডল।
তিনি জয়লাভ করে বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কুলতলিতে। এবার ও দল তার উপর আস্থা রেখে ফের প্রার্থী করেছে।প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি ময়দানে নেমে পড়েছেন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটের কৌশল নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং শুরু করেছেন জনসংযোগের কাজ।কুলতলি বিধানসভার একাধিক পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বিরোধী দল থেকে প্রচুর কর্মী সমর্থক তার হাত ধরে তৃনমূল কংগ্রেসের যোগ দিচ্ছেন প্রতিদিন।
কুলতলি ও মৈপীঠের দেওয়াল লিখনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে তাকে।গণেশ চন্দ্র মণ্ডলের দাবি, গত পাঁচ বছরে কুলতলির সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে।পর্যটনের ব্যবসা বেড়েছে। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে ও তিনি জানান।পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে নিজের জয় নিয়ে একেবারে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী গণেশ চন্দ্র মণ্ডল।তার মতে, শুধু জয় নয়, গতবারের তুলনায় জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ানোই তার লক্ষ্য।আর সেই লক্ষে এগিয়ে চলেছে তৃনমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কুলতলির অলিতে গলিতে।আর এলাকার মানুষ ও দুহাত ভরে তাকে আশীর্বাদ করছেন।







