বিজেপির তোলা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মাঝেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ১ পঞ্চায়েতের দু’বারের নির্বাচিত তৃণমূল সদস্যা রুপালী বিশ্বাসের। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘ডিলিট’ উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রুপালী বিশ্বাসের বাড়ি জামালপুর ১ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উত্তর মোহনপুর গ্রামে। ১৪২ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় এতদিন তাঁর নাম ছিল। পরপর দু’বার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে সদস্য হন তিনি।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই রুপালী বিশ্বাসের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি। ১৪২ নম্বর বুথের বিজেপি বিএলএ-২ সুশান্ত মণ্ডল এবং জামালপুর ১ মণ্ডল বিজেপির সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল প্রশাসন ও কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি ছিল, রুপালী বিশ্বাস ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এমনকি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও তফসিলি জাতি (SC) শংসাপত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিযোগও তোলা হয়।তবে এই সমস্ত অভিযোগ আগেই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন রুপালী বিশ্বাস।শনিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের জায়গায় ‘ডিলিট’ দেখা যায়।
একই সঙ্গে জামালপুর ১ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডলের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ উল্লেখ রয়েছে।এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডল বলেন, “আমরা যে অভিযোগ কমিশনে জানিয়েছিলাম তা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এবার রুপালী বিশ্বাসের পঞ্চায়েত সদস্য পদ খারিজের দাবি প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।”অন্যদিকে, রুপালী বিশ্বাস এদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তবে উপ-প্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডল, যিনি জেলা যুব তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গেও যুক্ত, কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘বিচারাধীন’ দেখানো এবং তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের নাম ‘ডিলিট’ করার ঘটনায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।”ঘটনাকে ঘিরে জামালপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। আগামী দিনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।







