ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী পূর্ব বর্ধমানের কৈয়ড় গ্রাম পঞ্চায়েত অধীন তোড়কোনা গ্রাম। এই গ্রামেই প্রখ্যাত আইনজ্ঞ, দানবীর, শিক্ষাবিদ Sir Rash Behari Ghosh প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দুটি শিবলিঙ্গ—‘নীল পদ্মেশ্বর’ ও ‘নকুলেশ্বর’। তাঁর উদ্যোগেই এখানে নিয়মিত নৃত্যসেবা, মহাসমারোহে শিবরাত্রি পূজা এবং দুঃস্থদের সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতো।
ইতিহাস বলছে, শিবরাত্রির দিনটি ছিল তোড়কোনা গ্রামের এক মহোৎসব। পূজার আয়োজনের পাশাপাশি দিনদুঃখী ও অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করতেন তিনি নিজে। শিবের নামে বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিও দান করে গিয়েছিলেন। তবে সময়ের প্রবাহে সেই সম্পত্তির অধিকাংশই আজ আর অবশিষ্ট নেই বলে দাবি স্থানীয়দের।
বর্তমানে ‘স্যার রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই চালু রয়েছে শিবের নিত্যসেবা ও মহাশিবরাত্রি পূজা। স্যার রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সেবাইত ও সম্পাদক শ্রী পঞ্চানন দত্ত জানিয়েছেন, নানা আর্থিক সংকট সত্ত্বেও ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ। শিবরাত্রির দিন গ্রামজুড়ে ভক্তদের ঢল নামে, বিশেষত গ্রামের নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। যারা ব্রত পালন করেন, পূজা শেষে তাঁদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। প্রায় দেড় হাজার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে খিচুড়ি ভোগ গ্রহণ করেন—যা গ্রামীণ সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, স্যার রাসবিহারী ঘোষের আমলে নির্মিত দুটি শিবমন্দির ও তাঁর স্মৃতিসৌধ ক্রমশ জীর্ণ অবস্থায় পরিণত হচ্ছে! সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাগুলির অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। গ্রামবাসী ও স্যার রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
ঐতিহ্যের এই পীঠস্থান শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, এটি এক মহান ব্যক্তিত্বের মানবিক চেতনার স্মারকও। তাই তোড়কোনার মানুষ চাইছেন—অবহেলার অন্ধকার কাটিয়ে আবারও নতুন রূপে জেগে উঠুক নীল পদ্মেশ্বর ও নকুলেশ্বরের পবিত্র ধাম।







