আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

বিচারাধীন তকমা শেষ অব্দি ঘুচলো-সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় সম্পূর্ণ বৈধ ভোটার হিসাবে বিবেচিত হলেন শতায়ু পার করা শেখ ইব্রাহিম

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

বিচারে শেষ অব্দি মিলেছে স্বস্তি। ভারতের প্রকৃত নাগরিক হওয়ার বিচারে উত্তীর্ণ হয়ে ভোটাধিকার ফিরে পেলেন ’শতায়ু’ পার করা পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের শেখ ইব্রাহিম। একই সাথে শেখ ইব্রাহিমের দুই পুত্র ও পুত্রবধূরাও ফিরে পেয়েছেন ভোটাধিকার। ’বিচারাধীন’ ভোটারের তকমা খুইয়ে সাপ্লিমেন্টারি (অতিরিক্ত ) তালিকায় বৈধ ভোটার হিসাবে বিবেচিত হয়ে খুশি শেখ পরিবারের সদস্যরা।আসন্ন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দানের জন্য তাঁরা এখন মুখিয়ে আছেন।

প্রবীণ শেখ ইব্রাহিম জামালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বত্রিশবিঘা গ্রামে বাসিন্দা।তিনি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই গ্রামের ১৩৮ নম্বর বুথের ভোটার এবং আদি বাসিন্দা।ইব্রাহিম দাবি করেছেন,’দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। তাঁর স্ত্রী আসেমা বেগম ১৮ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। ইব্রাহিমের ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে।মেয়েরা বিবাহিত। ছেলেরা বত্রিশবিঘা গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন।তাঁরা পরম স্নেহে তাঁদের বৃদ্ধ বাবাকে আগলে রেখেছেন। বত্রিশবিঘা গ্রামের বাসিন্দারাও তাঁদের গ্রামের সব থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ শেখ ইব্রাহিমকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার আসনে স্থান দিয়ে রেখেছেন।

বাংলায় এসআইআর (SIR) পর্ব শুরু হওয়ার পর গত ২৯ জানুয়ারি প্রবীণ শেখ ইব্রাহিমকে সশরীরে ব্লকের বিডিও অফিসে ’শুনানিতে’ হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়।’লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির’ কথা তাতে উল্লেখ থাকে।ওই নোটিশ বৃদ্ধর বাড়িতে পৌছে দেন ১৩৮ নম্বর বুথের বিএলও(BLO)। তা নিয়ে তোলপাড় পড়তেই কমিশনের প্রতিনিধিরা ১০৪ বছর বয়সী শেখ ইব্রাহিমের বাড়িতে গিয়ে শুনানি সারেন।তার সাথে তারা বৃদ্ধর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও যাচাই করে যান। তার পরে প্রকাশিত চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় শেখ ইব্রাহিমের নাম ’বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

সেটা জেনে বৃদ্ধ শেখ ইব্রাহিম বড়ই হতাশ হন। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি তখন বলেন, ”দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও আমি ভোট দিয়েছি। তা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় কেন আমায় বিচারাধীন হিসাবে চিহ্নিত করা হল তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না। ১০৪ বছর বয়সেও আমি বেঁচে রয়েছি, এটাই কি আমার অপরাধ হয়ে গেছে ! তাই কি ভোটার তালিকায় আমার নাম রাখা নিয়ে কমিশন এইভাবে আমায় অপদস্ত করছে“। বৃদ্ধ বাবাকে হয়রান হতে হওয়ার জন্য ইব্রাহিমের ছেলেরাও সে সময়ে কমিশনকে ’অমানবিক’ আখ্যা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি।

See also  বুদবুদের কোটা গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো শতাব্দী প্রাচীন ভেলা ভাসানো অনুষ্ঠান

বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত শরীর নিয়ে ঘরে বসে শেখ ইব্রাহিম মঙ্গলবার বলেন,“ আমি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দেখেছি ,ভারত স্বাধীন হতেও দেখেছি। এমনকি হাওড়া ব্রিজ তৈরি থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও দেখেছি।গান্ধীজীর ডাকা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মিছিলে আমিও ছুটে গিয়েছি। এখন বয়সের ভারে আমি আর ভালো ভাবে হাঁটা চলা করতে পারি না।আমার মতো একজন প্রবীণের নাম চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় ’বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হেয়েছে জেনে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছিলাম। যাক,শেষ অব্দি সঠিক বিচার করে ভারতের নির্বাচন কমিশন আমাকে দেশের প্রকৃত নাগরিক মেনে নিয়ে বৈধ একজন ভোটারে স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে আমি খুবই খুশি হয়েছি।

বৃদ্ধর ছেলে শেখ রাইহান উদ্দিন ও শেখ আরেফুল ইসলাম বলেন,“আমাদের বাবা দেশের একজন অতি প্রবীণ নাগরিক। বর্তমানে বাবার বয়স ১০৪ বছর তার পরেও এসআইআর (SIR)পর্বে প্রকাশ হওয়া চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় আমাদের বাবার নাম ’বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।এমনকি শেখ ইব্রাহিমের দুই পুত্র ও পুত্রবধূর নামও বিচারাধীন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যা তাঁদের কাছে বড়ই অসন্মানের হয়ে উঠেছিল।“তবে শেষ অব্দি আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা সাপ্লিমেন্টারি (অতিরিক্ত ) ভোটার তালিকা আমরা মঙ্গলবার খতিয়ে দেখি।তখনই নিশ্চিত হই আমার বাবা সহ তাঁর দুই পুত্র ও পুত্রবধূ ,সকলেরই নাম দেশের বৈধ ভোটার হিসাবে ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছে“।

এ নিয়ে জামালপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভূতনাথ মালিক বলেন,“দেশের প্রবীণ নাগরিক শেখ ইব্রাহিমকে এতদিন দুশ্চিন্তায় রেখে নির্বাচন কমিশন সঠিক কাজ করে নি।
আমাদের দল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসবের জন্য নিজে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেছেন।সেই লড়াইয়ের ফল আজ পেলেন শতায়ু পার করা শেখ ইব্রাহিম এবং তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূরা।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি