পূর্বস্থলী ব্লকের কালেকাতলা–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরডাঙ্গা গ্রাম এখন কুল চাষে ব্যস্ততার চরমে। এ বছর রেকর্ড উৎপাদন ও বাজারে চড়া দামের জেরে গ্রামজুড়ে খুশির হাওয়া। স্থানীয় পাইকারি আড়ত থেকে ট্রাক বোঝাই কুল রওনা দিচ্ছে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিভিন্ন জেলায়।
চাষিদের কথায়, এবার বাও কুল, ভারত সুন্দরী, তাইওয়ান, নূরানী ও বল কুলের ফলন উল্লেখযোগ্য। পাইকারি বাজারে বাও কুল ও ভারত সুন্দরীর দাম উঠেছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত। বল কুল বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকায়। এই দর গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি বলে জানাচ্ছেন আড়তদাররা।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরডাঙ্গার কৃষকেরা উন্নত প্রজাতির কুল চাষে ঝুঁকেছেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ এবং আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতির কারণে এ বছর ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। তার সঙ্গে বাজারদরও অনুকূলে থাকায় লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
স্থানীয় কুল চাষি মৃত্যুঞ্জয় দাস প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। তাঁর কথায়, “এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনই দামও মিলছে ঠিকঠাক। পরিশ্রম সার্থক হয়েছে”। বর্তমানে গোটা মাঠ জুড়ে পাকা কুল তুলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে তোলা, বাছাই ও প্যাকিংয়ের কাজ।
চাষিদের আশা, আগামী বছরও যদি আবহাওয়া সহায়ক থাকে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে এলাকায় কুল চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে। সরডাঙ্গা ধীরে ধীরে রাজ্যের অন্যতম কুল উৎপাদনকারী গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।







