মোবাইল প্যাট্রোল টিমে জোরদার সুরক্ষা বলয়!বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের একাধিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। এবার সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মহিলা পরিচালিত ‘পিঙ্ক বুথ’ এবং মহিলা মোবাইল প্যাট্রোল টিম ‘শাইনিং’—এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সুরক্ষা বলয় আরও মজবুত করা হচ্ছে।পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতি এক সুদূরপ্রসারী সামাজিক অঙ্গীকার।
বাংলার অগ্নিকন্যা, মা মাটি মানুষের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদর্শী চিন্তার ফলেই এই নজিরবিহীন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে”।রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় স্থাপন করা হচ্ছে ‘পিঙ্ক বুথ’। এই বুথগুলিতে সম্পূর্ণভাবে মহিলা পুলিশ কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করবেন। অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করবে এই বিশেষ ইউনিট।
নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
অপার্থিব ইসলাম বলেন, “অনেক সময় মহিলারা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে সংকোচ বোধ করেন। পিঙ্ক বুথ সেই মানসিক বাধা দূর করবে। এখানে তাঁরা নির্ভয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। এটা সামাজিক মানসিকতারও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে”।
রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে গঠন করা হয়েছে মহিলা মোবাইল প্যাট্রোল টিম ‘শাইনিং’। প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ২টো পর্যন্ত বিভিন্ন সংবেদনশীল ও ব্যস্ত এলাকায় টহল দেবে এই বিশেষ দল। কর্মজীবী মহিলা, ছাত্রী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জেলা পরিষদের অধ্যক্ষের কথায়, “বর্তমান সময়ে বহু মহিলা রাত পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকেন। তাঁদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘শাইনিং’ টিম শুধু টহল দেবে না, প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তাও করবে। এই পদক্ষেপ বাংলায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে”।
অপার্থিব ইসলাম আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী থেকে শুরু করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রসার—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। ‘পিঙ্ক বুথ’ ও ‘শাইনিং’ সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল সংযোজন। বাংলায় নারীরা আজ আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও সুরক্ষিত”।
তিনি দাবি করেন, এই উদ্যোগ দেশের অন্য রাজ্যগুলির কাছেও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনের সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়ে বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিরাপদ সমাজ গঠনে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।







