রাজনীতির মঞ্চে কখনও কখনও এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা একসঙ্গে ক্ষমতার উত্থান এবং পতনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। একদিকে এই কেন্দ্র থেকেই জয়লাভ করে বিধায়ক থেকে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। অন্যদিকে একই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করল পুলিশ।

মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খোকন দাসকে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয়। আদালত চত্বরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেই কারণে পুলিশের তরফে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রাক্তন বিধায়কের মাথায় হেলমেট পরিয়ে আনা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জনরোষ বা সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কা থেকেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তোলাবাজি, হুমকি, মারধর, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং অন্যান্য একাধিক অভিযোগে খোকন দাসের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করার পর মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে তোলার সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্ধমান দক্ষিণের রাজনীতিতে এই ঘটনা এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। যে আসন থেকে একসময় খোকন দাস বিধায়ক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, আজ সেই কেন্দ্র থেকেই নির্বাচিত হয়ে মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন । ফলে একই রাজনৈতিক পরিসরে একদিকে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছনোর ঘটনা, অন্যদিকে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা— দুই বিপরীত চিত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রাজনীতিতে জনসমর্থন ও জনআস্থাই শেষ কথা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়, বদলে যায় নেতৃত্বের অবস্থানও। বর্ধমান দক্ষিণে বর্তমান পরিস্থিতি সেই পরিবর্তনেরই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
এদিকে খোকন দাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তের স্বার্থে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্ধমান দক্ষিণের এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি কেন্দ্রের নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতারও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। একদিকে নতুন নেতৃত্বের উত্থান, অন্যদিকে প্রাক্তন ক্ষমতাধর নেতার আইনি সঙ্কট— এই দুই ছবি এখন জেলার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।








