সন্ধ্যা নামলেই একসময় গ্রামবাংলার আকাশে যেমন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যেত, তেমনই ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত লন্ঠন আর হারিকেন। বিদ্যুতের সুইচ নয়— কাঁচের চিমনি খুলে সলতে টেনে, কেরোসিন ঢেলে, দেশলাই কাঠির ছোট্ট আগুনে আলোর জন্ম হত। সেই আলো ছিল মৃদু, কাঁপা কাঁপা, কিন্তু তাতেই আলোকিত হত সংসার, স্বপ্ন আর সংগ্রাম।
আজ বিদ্যুতের ঝলমলে আলো, ইনভার্টার, ইমার্জেন্সি লাইট, সোলার ল্যাম্প— সবকিছুর ভিড়ে লন্ঠন-হারিকেন যেন স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি। কিন্তু একটা সময় এই দু’টি জিনিস ছিল গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বহু জায়গায় ছিলই না। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আলোর একমাত্র ভরসা ছিল এই কেরোসিন বাতি।
অনেকেই আজ স্মৃতিচারণ করেন— “হারিকেনের আলোয় পড়েছি, পরীক্ষা দিয়েছি, চাকরি পেয়েছি”। সেই আলোয় চোখ কুঁচকে বইয়ের অক্ষর পড়া সহজ ছিল না। গরমে চিমনির কাঁচে জমত কালো কালি, মাঝে মাঝে সলতে কমে গেলে আলো নিভে আসত। তবুও সেই আলোর মধ্যেই জন্ম নিয়েছে ডাক্তার, শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা— একের পর এক প্রজন্ম।
গ্রামের বহু পরিবারের কাছে লন্ঠন ছিল সঞ্চয়ের প্রতীকও। কেরোসিন কিনতে হত হিসেব করে। সলতে যাতে দ্রুত না পুড়ে যায়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হত। আলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল শিক্ষা।
শুধু ঘরের ভেতর নয়, বাইরেও ছিল হারিকেনের দাপট। যাত্রাপালা, কীর্তন, গ্রাম সভা, পুজোর আয়োজন— সবেতেই ঝুলত হারিকেন। কোনও বাড়িতে অতিথি এলে উঠোনে একাধিক লন্ঠন জ্বালানো হত। আলো কম হলেও সেই পরিবেশে ছিল এক ধরনের আন্তরিকতা, ঘনিষ্ঠতা।
বিয়ের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলে সারি সারি হারিকেন কিম্বা স্মৃতিতেই থাক লন্ঠন–হারিকেন কেরোসিনের ম্লান আলোয় জ্বলে থাকা এক প্রজন্মের গল্প সন্ধ্যা নামলেই একসময় গ্রামবাংলার আকাশে যেমন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যেত, তেমনই ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত লন্ঠন আর হারিকেন। বিদ্যুতের সুইচ নয়— কাঁচের চিমনি খুলে সলতে টেনে, কেরোসিন ঢেলে, দেশলাই কাঠির ছোট্ট আগুনে আলোর জন্ম হত। সেই আলো ছিল মৃদু, কাঁপা কাঁপা, কিন্তু তাতেই আলোকিত হত সংসার, স্বপ্ন আর সংগ্রাম।
আজ বিদ্যুতের ঝলমলে আলো, ইনভার্টার, ইমার্জেন্সি লাইট, সোলার ল্যাম্প— সবকিছুর ভিড়ে লন্ঠন-হারিকেন যেন স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি। কিন্তু একটা সময় এই দু’টি জিনিস ছিল গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বহু জায়গায় ছিলই না। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আলোর একমাত্র ভরসা ছিল এই কেরোসিন বাতি।
পড়াশোনার সঙ্গী, সংগ্রামের আলো
অনেকেই আজ স্মৃতিচারণ করেন— “হারিকেনের আলোয় পড়েছি, পরীক্ষা দিয়েছি, চাকরি পেয়েছি।” সেই আলোয় চোখ কুঁচকে বইয়ের অক্ষর পড়া সহজ ছিল না। গরমে চিমনির কাঁচে জমত কালো কালি, মাঝে মাঝে সলতে কমে গেলে আলো নিভে আসত। তবুও সেই আলোর মধ্যেই জন্ম নিয়েছে ডাক্তার, শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা— একের পর এক প্রজন্ম।
গ্রামের বহু পরিবারের কাছে লন্ঠন ছিল সঞ্চয়ের প্রতীকও। কেরোসিন কিনতে হত হিসেব করে। সলতে যাতে দ্রুত না পুড়ে যায়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হত। আলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মিতব্যয়িতার শিক্ষা।
সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ শুধু ঘরের ভেতর নয়, বাইরেও ছিল হারিকেনের দাপট। যাত্রাপালা, কীর্তন, গ্রাম সভা, পুজোর আয়োজন— সবেতেই ঝুলত হারিকেন। কোনও বাড়িতে অতিথি এলে উঠোনে একাধিক লন্ঠন জ্বালানো হত। আলো কম হলেও সেই পরিবেশে ছিল এক ধরনের আন্তরিকতা, ঘনিষ্ঠতা।
বিয়ের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলে সারি সারি হারিকেন নাতো হ্যাচাক ঝুলিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হত। মাঠে ফসল পাহারা দিতে গিয়েও কৃষকের হাতে থাকত লন্ঠন। ঝড়বৃষ্টির রাতে কাঁপতে কাঁপতে জ্বলা সেই আলো যেন সাহস দিত— অন্ধকার কাটবেই।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া ছবি বর্তমানে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুতায়ন, এলইডি বাল্বের সহজলভ্যতা, সোলার শক্তির ব্যবহার— সব মিলিয়ে কেরোসিন বাতির প্রয়োজন প্রায় নেই বললেই চলে। মোবাইল ফোনের টর্চ, চার্জার লাইট— মুহূর্তে আলো জ্বেলে দেয়। কাঁচ পরিষ্কার করা বা সলতে কাটার ঝামেলাও নেই।
ফলে লন্ঠন-হারিকেন আজ অনেক বাড়িতেই ধুলোমাখা অবস্থায় পড়ে থাকে। কেউ কেউ সেটিকে সাজিয়ে রাখেন নস্টালজিয়ার নিদর্শন হিসেবে। অনেকেই পুরনো হারিকেন ফেলে না দিয়ে তুলে রেখেছেন— “যদি কোনওদিন দরকার হয়” ভেবে।
স্মৃতির আলো, আবেগের উত্তরাধিকার প্রযুক্তির উন্নতি জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে এক ধরনের সরলতা। লন্ঠনের ম্লান আলোয় পরিবার একসঙ্গে বসে গল্প করত, ঠাকুমার মুখে শোনা যেত রূপকথা। বিদ্যুতের উজ্জ্বল আলোয় এখন প্রত্যেকে আলাদা ঘরে, আলাদা পর্দার সামনে ব্যস্ত।
লন্ঠন–হারিকেন হয়তো আর দৈনন্দিন জীবনের অংশ নয়, কিন্তু তা গ্রামবাংলার সংস্কৃতির স্মারক। সংগ্রামের, স্বপ্নের, সাদামাটা জীবনের প্রতীক। এক প্রজন্মের চোখের জলে, হাসিতে, সাফল্যে সেই আলো আজও জ্বলছে— শুধু বাস্তবে নয়, স্মৃতির গভীরে।
সময়ের নিয়মে পরিবর্তন আসবেই। তবু বলা যায়, বিদ্যুতের ঝলকানির মাঝেও কোথাও যেন মনের কোণে জ্বলতে থাকে এক টুকরো কেরোসিনের আলো। তাই হয়তো অনেকেই বলেন—
লন্ঠন-হারিকেন থাক স্মৃতিতেই, কিন্তু তাদের আলো কোনওদিন নিভে যাবে না।ঝুলিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হত। মাঠে ফসল পাহারা দিতে গিয়েও কৃষকের হাতে থাকত লন্ঠন। ঝড়বৃষ্টির রাতে কাঁপতে কাঁপতে জ্বলা সেই আলো যেন সাহস দিত— অন্ধকার কাটবেই।
বর্তমানে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুতায়ন, এলইডি বাল্বের সহজলভ্যতা, সোলার শক্তির ব্যবহার— সব মিলিয়ে কেরোসিন বাতির প্রয়োজন প্রায় নেই বললেই চলে। মোবাইল ফোনের টর্চ, চার্জার লাইট— মুহূর্তে আলো জ্বেলে দেয়। কাঁচ পরিষ্কার করা বা সলতে কাটার ঝামেলাও নেই।
ফলে লন্ঠন-হারিকেন আজ অনেক বাড়িতেই ধুলোমাখা অবস্থায় পড়ে থাকে। কেউ কেউ সেটিকে সাজিয়ে রাখেন নস্টালজিয়ার নিদর্শন হিসেবে। অনেকেই পুরনো হারিকেন ফেলে না দিয়ে তুলে রেখেছেন— “যদি কোনওদিন দরকার হয়” ভেবে।
প্রযুক্তির উন্নতি জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে এক ধরনের সরলতা। পরিবার একসঙ্গে বসে গল্প করত, ঠাকুমার মুখে শোনা যেত রূপকথা। বিদ্যুতের উজ্জ্বল আলোয় এখন প্রত্যেকে আলাদা ঘরে, আলাদা পর্দার সামনে ব্যস্ত।
লন্ঠন–হারিকেন হয়তো আর দৈনন্দিন জীবনের অংশ নয়, কিন্তু তা গ্রামবাংলার সংস্কৃতির স্মারক। সংগ্রামের, স্বপ্নের, সাদামাটা জীবনের প্রতীক। এক প্রজন্মের চোখের জলে, হাসিতে, সাফল্যে সেই আলো আজও জ্বলছে— শুধু বাস্তবে নয়, স্মৃতির গভীরে।
সময়ের নিয়মে পরিবর্তন আসবেই। তবু বলা যায়, বিদ্যুতের ঝলকানির মাঝেও কোথাও যেন মনের কোণে জ্বলতে থাকে এক টুকরো কেরোসিনের আলো। তাই হয়তো অনেকেই বলেন—
লন্ঠন-হারিকেন থাক স্মৃতিতেই, কিন্তু তাদের আলো কোনওদিন নিভে যাবে না।







