সন্দীপ পাল:- বর্তমান সময়ে রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ক্রমশ সামনে উঠে আসছে—মানুষ কি চাকরি চাইছেন, নাকি ভাতা? সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি ভাতা প্রকল্পে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য রাজ্যের নানা প্রান্তের সাইবার ক্যাফেগুলিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করে তুলছে। এতে স্পষ্ট, আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বহু পরিবারের কাছে সরকারি ভাতা এখন দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠেছে।

তবে এর পাশাপাশি আরেকটি উদ্বেগজনক দিকও সামনে আসছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে যে স্বাভাবিক যোগসূত্র থাকা উচিত, তা যেন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে সন্তানদের দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একদিকে ভাতা মানুষের তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তি এনে দেয়, অন্যদিকে স্থায়ী কর্মসংস্থান একজন মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা, মর্যাদা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই শুধুমাত্র ভাতার উপর নির্ভরশীল সমাজ কখনও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাতা অবশ্যই প্রয়োজন, বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের জন্য। কিন্তু তার পাশাপাশি শিল্প, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুলভ উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোও সমান জরুরি।
কারণ একটি সুস্থ সমাজ গড়তে হলে ভাতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন কর্মসংস্থান ও মানসম্মত শিক্ষার বিস্তার।
অতএব, চাকরি ও ভাতাকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখা উচিত। স্বল্পমেয়াদে ভাতা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হবে শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থান।









