পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর ব্লকে বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হলেন এলাকার কৃষকরা। শনিবার বৈকালে মন্তেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত মাঝেরগ্রাম পঞ্চায়েতের দেওয়ানগদী বাজার সংলগ্ন এলাকায় “কৃষি ও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম কমিটি”-র উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ, মন্তেশ্বর ব্লকের মাঝেরগ্রাম অঞ্চলের দেওয়ানগদী এলাকায় একাধিক চাষির সাবমারসিবল পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ হঠাৎই বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ দপ্তর। ফলে চাষের কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বর্তমানে ধানের বীজ রোপণের সময়—এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ায় রোয়া জমির ধানগাছ শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে কৃষকরা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। মূল দাবিগুলি হল—অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে হবে,
চাষিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার করতে হবে,ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল পাঠানো বন্ধ করতে হবে,কৃষি বিদ্যুতের বার্ষিক বিল ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে নির্দিষ্ট করতে হবে,প্রতি কুইন্টাল ধানের মূল্য ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে,ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে,বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কৃষি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে ধানের ন্যায্য মূল্য মিলছে না, অন্যদিকে অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সারের কালোবাজারি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভ সভা থেকে আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে দেন, কোনও কৃষক অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার হলে হাইকোর্টের মনিটরে তদন্তের দাবি জানানো হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি ও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির ব্লক সভাপতি শেখ মোঃ ইয়াকুব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মোসলেম মল্লিক, আজারুল কাজী, রেহি মন্ডল, সিরাজুল খান, অসীম মাকড়, কেষ্ট পাল, মুকেশ সাঁতরা, বাদল শেখ, টগর হাজী, সাইদুল্লাহ শেখ, সালাম শেখ সহ এলাকার বহু কৃষক।
কৃষকদের স্পষ্ট বার্তা—অন্নদাতাদের স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।







