২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচারে গতি বাড়াল বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। পরে কাটোয়া রেল স্টেশন চত্বরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘চা-পে-চর্চা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জনসংযোগ করেন তিনি।
এই কর্মসূচির ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজ্যের সর্বত্রই ব্যর্থতার ছবি ফুটে উঠছে এবং আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরপ্রদেশ সফর প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে গিয়ে দিদি উল্টোপাল্টা হিন্দি বলেন। ওনাকে কে ভোট দেবে”? তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে সামগ্রিক উন্নয়ন— সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার চরমভাবে ব্যর্থ। বিজেপি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রকৃত পরিবর্তনের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের এই কটাক্ষের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম বলেন, “বিজেপি বলে এখন বাংলায় কার্যত কিছুই নেই। সেই কারণে বিজেপি নেতারা কী বলছেন, তা নিয়েও মানুষ আর বিশেষ গুরুত্ব দেন না। বাংলা ছিল, আছে এবং আগামীতেও থাকবে বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই।
তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ, জনমুখী প্রকল্প এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখেছেন। বিভাজন আর কটাক্ষের রাজনীতি করে বিজেপি কখনও বাংলার মানুষের মন জিততে পারবে না।” তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনেও বাংলার মানুষ ফের তৃণমূল কংগ্রেসের উপরই আস্থা রাখবেন।
ভোটের আগে কাটোয়ায় দিলীপ ঘোষের এই কর্মসূচি ও তা ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক তরজা জেলা রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।








