বিধানসভা নির্বাচনের আগে বারাসাত-এর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তিনবারের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী-র উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ, ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ১ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় দু’কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, অথচ বাকি ওয়ার্ডগুলি কোনও অর্থ পায়নি।
সূত্রের খবর, বিধায়ক তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৪২ টাকা খরচের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সিঁথির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৭৯৭ টাকা। বাকি ১ কোটি ৯০ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৪৫ টাকা বরাদ্দ হয়েছে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেএনসি রোডে আনন্দময়ী থেকে হাটখোলা মোড় পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক তার বসানোর কাজে।
প্রসঙ্গত, আগে বিধায়করা প্রতি বছর উন্নয়ন খাতে ৬০ লক্ষ টাকা করে পেতেন। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ থেকে সেই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৭০ লক্ষ টাকা। সাধারণত নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সমানভাবে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।তবে অভিযোগ উঠেছে, বিগত তিন বছরের বিধায়ক তহবিলের অর্থ সম্পূর্ণভাবে খরচ হয়নি।
নির্বাচনের মুখে হঠাৎ করে মাত্র দু’টি ওয়ার্ডে বড় অঙ্কের বরাদ্দ ঘিরে তাই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।এ বিষয়ে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর চৈতালি ভট্টাচার্য বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের জন্য সমানভাবে টাকা দেওয়া উচিত। আমাদের ওয়ার্ডের মানুষও তো ভোট দিয়েছেন।
তাহলে কেন আমাদের ওয়ার্ড উন্নয়ন খাতে বিধায়ক তহবিলের টাকা পাবে না?”বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই পুরসভার অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এখন দেখার, বিধায়ক বা প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসে কি না।










