Category: দক্ষিণবঙ্গ

  • পুলিশ কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় বোলপুর মহকুমা আদালতে আগাম জামিন অনুব্রত’র

    পুলিশ কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় বোলপুর মহকুমা আদালতে আগাম জামিন অনুব্রত’র

    বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার কে ফোন কলে অনুব্রত মণ্ডলের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় অবশেষে তিন মাস পর সোমবার দুপুরে বোলপুর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন অনুব্রত মণ্ডল।

    যদিও এদিন সকালেই অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবীরা আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেন, পরে দুপুর ২টো নাগাদ সুনামির সময় থাকলেও সুনামি সময় শেষ হওয়ার আগেই অনুব্রত মণ্ডল হাজির হন বোলপুর মহকুমা আদালতে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৯শে এপ্রিল একটি অডিও ভাইরাল হয় যেটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক মহলে। আর তারপরেই সেই চাপে পড়ে বীরভূম জেলা পুলিশ স্বত্বপ্রণোদিত ভাবে অনুব্রত মণ্ডল এর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। যদিও এই ঘটনায় তদন্তকারী আধিকারিক ছিলেন বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রিকি আগরওয়াল। বোলপুর এস ডি পি ও দপ্তরে একাধিকবার হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠালেও তিনি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। পরবর্তী সময়ে পাঁচ দিন বেডরেস্টের পর হাজিরা দেন অনুব্রত মণ্ডল।

    এই ঘটনায় অবশেষে আদালতের কাছে অনুব্রত মণ্ডল আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বোলপুর মহকুমা আদালতের বিচারক শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর করে অনুব্রত’র।

    যদিও এ নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল কোন মুখ খুলতে চাননি।

  • আবারও খন্ডঘোষ রোডে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, সাইকেল আরোহী সুফল বাগের মৃত্যু

    আবারও খন্ডঘোষ রোডে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, সাইকেল আরোহী সুফল বাগের মৃত্যু

    পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান বাঁকুড়া- বর্ধমান রোডে আবারও রক্তাক্ত হলো এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায়।

    সোমবার সকালে খন্ডঘোষ থানার খেজুরহাটি এলাকা থেকে সাইকেল নিয়ে কাজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন খেজুরহাটি বান্দির পার এলাকার বাসিন্দা সুফল বাগ (৫০)। এদিন সকালে তিনি সাইকেল নিয়ে খেজুরহাটি বাজার থেকে খন্ডঘোষের দিকে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান হঠাৎই একটি বেপরোয়া গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়রা দোষী চালকের শাস্তির দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, বাঁকুড়া রোডে প্রতিদিনই বেপরোয়া গাড়ির দৌরাত্ম বেড়েছে।কিন্তু বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কয়েকদিন আগেই ভোরবেলায় একই রাস্তায় এক ছাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়েছিল। টিউশনি পড়তে যাওয়ার পথে তাঁকে একটি ডাম্পার পিষে দেয়। বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

    স্থানীয়দের বলছেন রাস্তার ওপর যথাযথ নজরদারির বাড়াতে হবে এবং প্রশাসন কে আরো সক্রিয় হতে হবে । তাঁরা দাবি তুলেছেন, দ্রুত স্পিড ব্রেকার বসানো, ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

    পথ দুর্ঘটনা এখন এই রোডের নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মানুষের প্রাণহানি রোধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যদি অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে তাঁরা আরও বড় আন্দোলনে নামবেন।

  • সুন্দরবনে মৃত্যু ঘটলো একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘের

    সুন্দরবনে মৃত্যু ঘটলো একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘের

    উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,সুন্দরবন :
    সুন্দরবনে মৃত্যু ঘটলো এক পূর্ণ বয়স্ক বাঘের। সুন্দরবনের বনি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই দেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।আর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে চলে আসতেই উত্তেজনা ছড়ায় বন কর্মীদের মধ্যে। ওই বাঘের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে প্রথম দিকে রহস্য তৈরি হলেও পরে অবশ্য জানা যায় বয়সজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে বাঘটির।

    প্রথমে সন্দেহ হয় সুন্দরবনের জঙ্গলে চোরাশিকারীরা আবার হয়ত সক্রিয় হয়েছে। তাদের হাতেই মৃত্যু হয়েছে ওই পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গলের।পরে অবশ্য জানা যায় বয়স জনিত কারণে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যু হয়েছে ওই বাঘটির।বন দপ্তর সূত্রে জানা যায়,বাঘটির আনুমানিক বয়স হয়েছিল প্রায় ১৪ বছর।জেলা বন দপ্তর সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বন বিভাগের অন্তর্গত রায়দীঘি রেঞ্জের বনি ক্যাম্প সংলগ্ন জঙ্গল থেকে বাঘটির দেহ উদ্ধার করেন বনকর্মীরা।

    পরে ওই ক্যাম্পেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বাঘটির দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।আর সেই রিপোর্টেই জানা যায়, বার্ধক্য জনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই পূর্ণবয়স্ক বাঘটির।এ ব্যাপারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনবিভাগের আধিকারিক (ডি এফ ও) নিশা গোস্বামী বলেন, বাঘটির একটি দাঁত ভাঙা ছিল, যেটি বয়সজনিত কারণেই হয়েছে।

    আর দাঁতভাঙা থাকার কারণেই শিকার ধরতে অক্ষম হয়ে পড়ায় খাবারের অভাবে বাঘ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবশেষে তার মৃত্যু হয়।এটা স্বাভাবিক মৃত্যু।
    ­

  • স্বাধীনতা দিবসে খণ্ডঘোষে বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত সেবা সমিতির প্রথম কর্মসূচি পালিত

    স্বাধীনতা দিবসে খণ্ডঘোষে বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত সেবা সমিতির প্রথম কর্মসূচি পালিত

    স্বাধীনতা দিবসের পুণ্য লগ্নে (১৫ আগস্ট ২০২৫, শুক্রবার) নবগঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত সেবা সমিতি আয়োজন করল তাদের প্রথম কর্মসূচি। খণ্ডঘোষ ব্লকের কুমিরকোলা দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে দিনভর নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক, সমাজসেবী ও স্থানীয় মানুষ।

    শুক্রবার সকাল আটটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তের জন্মভূমি ওঁয়ারি গ্রামে গিয়ে তাঁর ও ভগৎ সিং-এর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। কুমিরকোলার দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ ভাস্করানন্দজী মহারাজ।

    উদ্বোধনী পর্বে অতিথিদের উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক ও স্মারক তুলে দিয়ে বরণ করা হয়। শিবিরে প্রথম রক্তদাতা ছিলেন সঞ্জয় রায় এবং শেষ রক্তদান করেন শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। প্রত্যেক রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    এরপর পালিত হয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। যারা রক্তদান করতে পারেননি, তাঁরাও সক্রিয়ভাবে বৃক্ষরোপণে যোগ দেন। কুমিরকোলার রথতলায় মহারাজ ভাস্করানন্দজী, সমাজসেবী ও সংগঠনের সহ-সভাপতি শুভাশিস ব্যানার্জি ও সায়ন দত্তসহ স্বেচ্ছাসেবকরা বৃক্ষরোপণ করেন।

    পাশাপাশি লোদনা অঞ্চলের গোলায় দামোদর নদ তীরে স্থানীয় যুবক দেবুর উদ্যোগে ৪০টি বটগাছের চারা রোপণ করা হয়। এতে যোগ দেন শিক্ষক অসিত দে ও মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের পরিবারের সদস্যরাও।

    অনুষ্ঠানের শেষে সকল রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ভোজনের আয়োজন করা হয়। ভোজন ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন সমাজসেবী সুব্রত মজুমদার (ভোলা দা)। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সমাজসেবী শুভাশিস ব্যানার্জি ও বিকাশ মণ্ডল।

    বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহারাজ ভাস্করানন্দজী বলেন—
    “দক্ষিণ দামোদরের চারজন বিপ্লবী ভারতের স্বাধীনতার জন্য অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খণ্ডঘোষের ওঁয়ারি গ্রামের বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত। কিন্তু তিনি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে যথাযোগ্য মর্যাদা পাননি। আজ তাঁর আদর্শকে পাথেয় করে এই সেবা সমিতি সমাজের উন্নয়নের পথে এগিয়ে আসায় তা সত্যিই প্রশংসনীয়। যে বৃক্ষরোপণ হলো, আগামী দিনে সেটিই মহীরুহ হয়ে সমগ্র ভারতবর্ষে উন্নয়নের অনুপ্রেরণা জোগাবে”।

    এই প্রথম কর্মসূচিই স্থানীয় মানুষদের মধ্যে উৎসাহ ও আশার সঞ্চার করেছে। সমিতির সহ-সভাপতি শুভাশিস ব্যানার্জি জানান—
    “আগামী দিনে আমাদের সংগঠন শুধু পূর্ব বর্ধমানেই নয়, জলপাইগুড়ি, ২৪ পরগনা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি গ্রহণ করবে”।

    সংগঠনের সদস্য শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন—
    “পরিবেশ রক্ষার্থে আগামী পাঁচ বছরে এক লক্ষ বট ও অশ্বত্থ বৃক্ষ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রেও কাজ করবে বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত সেবা সমিতি”।

  • হতশ্রী পথের শ্রী ফেরানোর প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পথের দুই প্রান্ত কেটে দিল গ্রামবাসীরা

    হতশ্রী পথের শ্রী ফেরানোর প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পথের দুই প্রান্ত কেটে দিল গ্রামবাসীরা

    প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান ১২ আগষ্ট

    রাজ্যে পথশ্রী প্রকল্প থাকলেও কিছুতেই শ্রী ফিরছে না পথের।তাই পথের শ্রী ফেরানোর দাবি আদায় করতে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের টেঙ্গাবেরিয়া
    গ্রামের বাসিন্দারা কেটে ফালা ফালা করে দিলেন তাঁদের গ্রামের হতশ্রী পথ।দু’প্রান্ত কেটে দেওয়া সেই পথে মঙ্গলবার আটকা

    পড়েন পাড়ায় সমাধান কর্মসূচি সারতে যাওয়া প্রশাসনের আধিকারিক,
    পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা। শেষে ব্লকের বিডিও-র কাছ থেকে হতশ্রী পথের শ্রী ফেরানোর প্রতিশ্রুতি আদায় করে গ্রামবাসীরা কাটা রাস্তা বুজিয়ে দেন।
    শ্রী যুক্ত পথের দাবি আদায়ের জন্য গ্রামবাসীদের এভাবে পথে নামা কার্যতই নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    জামালপুর ব্লকের জৌগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম টেঙ্গাবেড়িয়া। গ্রামে শতাব্দী প্রাচীন
    একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গ্রামবাসী পবিত্র পাইক,রিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, তপন মালিক-প্রমুখরা বলেন,আমাদের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গা ঘেঁষে গ্রামের প্রধান রাস্তাটি গিয়েছে।সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার দীর্ঘ ওই রাস্তাটি এক দশকেরও বেশী সময়কাল ধরে বেহাল হয়ে রয়েছে।

    রাস্তাটির হাল ফেরানোর জন্য গ্রামের বাসিন্দারা বহুবার ব্লক প্রশাসন ও জৌগ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে আবেদন নিবেদন করেছেন।তার পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তা সংস্কার
    হবে বলে শুধু আশ্বাস মিলে গিয়েছে।রাস্তার হাল আজ অবধি ফেরে নি।পথের বেহাল অবস্থার জন্য
    টেঙ্গাবেড়িয়া গ্রামের মানুষের দুর্দশা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। তা জেনেও রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ পঞ্চায়েত বা প্রশাসন না নেওয়ায় গ্রাম বাসীরা ক্ষোভে ফুঁষছিলেন। এদিন তারই বহিপ্রকাশ ঘটেছে।“

    রাজ্যে পথশ্রী প্রকল্প থাকতেও রাস্তাটি সংস্কার হতে
    অসুবিধা কি ছিল ? এর উত্তরে গ্রামবাসী পবিত্র পাইক বলেন, আমাদের টেঙ্গাবেড়িয়া গ্রামে বুথ দুটি ।গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একটি বুথে তৃণমূল এবং অপর বুথে বিজেপি প্রার্থী জিতেছে।একটি বুথে বিজেপি প্রার্থী জিতেছে বলেই যে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জৌগ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃকপক্ষ
    টেঙ্গাবেড়িয়া গ্রামের হতশ্রী পথের শ্রী ফেরানোর সদিচ্ছা সেটা গ্রামবাসীদের কারুরই আর বুঝতে বাকি থাকে নি।

    রাস্তা সংস্কারের দাবি আদায়ের জন্য রাস্তার দুই প্রান্ত গভীর ভাবে কেটে দিয়ে আন্দোলনে নামাটা কি যুক্তি সম্মত কাজ হয়েছে? এর উত্তরে গ্রামের বাসিন্দারা এক সুরে বলেন, আমরা রাস্তা কেটে আন্দোলনে নামতে চাই নি। এদিন আমাদের এই পথ বেছেনিতে বাধ্য করেছেন জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের
    প্রধান মল্লিকা মণ্ডল এবং উপ- প্রধান সাজাহান মণ্ডল। কি করেছেন এঁরা ?

    এর উত্তরে গ্রামবাসীরা বলেন ,’পাড়ায় সমাধান কর্মসূচিকে সামনে রেখে এদিন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসেছিলেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা।জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপ-প্রধানও সেখানে ছিলেন। পাড়ায় সমাধান কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা সরকারী আধিকারিকদের কাছে গিয়ে গ্রামের রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান গ্রামবাসীরা।তখন পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপ-প্রধান, রাস্তা সংস্কার হবে না বলে জানিয়ে দিতেই গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে ওঠে ।

    এরপর গ্রামের বেহাল রাস্তাটির সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে গ্রামবাসীরা রাস্তার দুই প্রান্ত আড়া আড়ি ভাবে কেটে দেন ।
    কাটা রাস্তায় বিডিও ,পুলিশ ,ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ আটকা পড়েন
    । বিডিও রাহুল বিশ্বাস রাস্তাটি সংস্কার হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে ক্ষোভ বিক্ষোভ মেটে। তার পর গ্রামবাসীরা কাটা রাস্তা বুজিয়ে দেয় ।

    পঞ্চায়েত প্রধান মল্লিকা মণ্ডল বলেন,টেঙ্গাবেড়িয়া গ্রামের একটি বুথে বিজেপি জিতেছে বলে আমরা ওই গ্রামের রাস্তা সংস্কার হতে দিচ্ছি না , এই অভিযোগ সত্য নয়। প্রধান জানান, টেঙ্গাবেড়িয়া গ্রামের ওই রাস্তাটি ইতিমধ্যেই ’পথশ্রী ১’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিন রাস্তা কাটার পিছনে রাজনীতি
    কাজ করেছে বলে প্রধান দাবি করেছেন।

  • রাতের অন্ধকারে জয়নগরে চারটি দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো

    রাতের অন্ধকারে জয়নগরে চারটি দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো

    উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : রাতের অন্ধকারে ভস্মীভূত হয়ে গেল চারটি দোকান জয়নগরে।আর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়।মঙ্গলবার রাতে জয়নগর থানার জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের পৌরসভার মাঠের পাশে থাকা চারটি দোকান কে বা কারা রাতের অন্ধকারে পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

    বুধবার সকালে স্থানীয় মানুষ দেখতে পায় দোকান গুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে স্থানীয় কাউন্সিলার তথা জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রথীন কুমার মন্ডল ও জয়নগর থানার পুলিশ।এব্যাপারে বুধবার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রথীন কুমার মন্ডল বলেন,ঐ দোকান গুলোকে আমি আমার ওয়ার্ডে বসার জায়গা করে দিই যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়।

    কিন্তু কে বা কারা রাতের অন্ধকারে এসে চারটি দোকান পুড়িয়ে দেয়।আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে আপাতত ওদের ত্রিপল দিয়েছি।ওরা জয়নগর থানায় এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেছে।

    আমরা চাই দোষীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত সাজা দেওয়া হোক।পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জয়নগর থানার পুলিশ।আর এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

  • গোডাউন ঘরের উঁচু স্থানে থাকা প্রকাণ্ড ট্রাঙ্ক পুলিশ খুলতেই মিললো নিঁখোজ নাবালক ছাত্র -শোরগোল কালনায়

    গোডাউন ঘরের উঁচু স্থানে থাকা প্রকাণ্ড ট্রাঙ্ক পুলিশ খুলতেই মিললো নিঁখোজ নাবালক ছাত্র -শোরগোল কালনায়

    প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান ৩১ জুলাই

    নিঁখোঁজ থাকা নাবালক ছাত্রকে একটি গোডাউন
    ঘরে থাকা টিনের বাক্সের মধ্য থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করলো পুলিশ। পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নম্বর ব্লকের কুলেপারা গ্রামে ছাত্রটির বাড়ি। ছাত্রের পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত নেমে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কালনা থানার পুলিশ ছাত্রটিকে উদ্ধার করে।


    ছাত্ টিকে ভর্তি করা হয় কালনা হাসপাতালে । আপাতত ছাত্রটি বিপদ মুক্ত । পুলিশের সহায়তায় ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তিতে ছাত্রের বাবা ও মা। তবে গোডাউন ঘরের উঁচুস্থানে থাকা টিনের বাক্সের মধ্যে নাবালক ছাত্র কি করে পৌছালো,সেই বিষয়টি পুলিশ মহলকেও বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা ২ ব্লকের অকালপৌষ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গ্রাম কুলেপাড়া ।এই গ্রামের যে ছাত্র টিকে পুলিশ উদ্ধার করে তাঁর বয়স নয় বছর। সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া।পরিবার সদস্যরা বৃহস্পতিবার দাবি করেন, নাবালক ছাত্রটি বুধবার সন্ধ্যায় পাশের পাড়ায় টিউশন পড়তে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়।

    বৃষ্টির কারণে সেদিন আর সে সাইকেল নিয়ে যায়নি। অনেক রাত হয়ে গেলেও ছাত্রটি বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়ে তাঁর মা-বাবা। গৃহশিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই ছাত্র বুধবার তাঁর কাছে পড়তে যায়নি।এর পরেই স্থানীয় মানুষজন ও আত্মীয় স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে ছেলের খোঁজে নেমে পড়েন বাবা- মা। ছেলেকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ওই রাতেই ছাত্রের বাবা- মা কালনা থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ দ্রুত নাবালক ছাত্রের খোঁজে নামে।

    রাত পার হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ছাত্রের বাড়ির অদূরের থাকা একটি গোডাউন ঘরে পৌছায় পুলিশ। ছাত্রের ফল ব্যবসায়ী বাবা ওই গোডাউটি ব্যবহার করতেন । ওই গোডাউনের কাছে পৌছে
    ছোটদের পায়ের জুতো দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তন্নতন্ন করে সেখানে খুঁজতে গিয়ে আট-দশফুট উঁচুতে থাকা একটি মাচার উপর টিনের বাক্স(ট্রাঙ্ক)
    দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়।

    বাক্সটিয়খুলতেই পুলিশ তার ভিতর অচৈতন্য অবস্থায় নাবালক ছাত্রকে পড়ে থাকতে দেখে। এরপরেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসার পর জ্ঞান ফিরতেই সে তার পরিবারকে ঘটনার কথা খুলে বলে।

    ছাত্রের বাবা বলেন, “ আমার ছেলে জানায়, ও নিজেই বাক্সের মধ্যে ঢুকেছে। পড়তে যাওয়ার আগে একটি বাঁশবাগান রয়েছে। সেখানে কিছু একটা দেখে ছেলে ভয় পায়। তারপর সেখান থেকে ছুটে গোডাউন ঘরে ছুটে এসে বাঁশ বেয়ে উপর উঠে টিনের ওই বাক্সের ভিতর ঢুকে পড়ে বলে জানিয়েছেন।“তবে এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

  • ওভার ব্রিজের দাবিতে পথ অবরোধ স্কুল পড়ুয়াদের, নাকাল সাধারণ মানুষ — আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

    ওভার ব্রিজের দাবিতে পথ অবরোধ স্কুল পড়ুয়াদের, নাকাল সাধারণ মানুষ — আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

    ওভার ব্রিজের দাবিতে পথ অবরোধে বসলো স্কুল পড়ুয়ারা। পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান ১ ব্লকের বেলকাশ অঞ্চলের জাতীয় সড়ক (এনএইচ)-এ সোমবার সকাল থেকে এই অবরোধে সামিল হয় এলাকার স্কুলপড়ুয়ারা। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেয় তারা। প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এই বিক্ষোভ এবং পথ অবরোধ। এর জেরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় জাতীয় সড়কে। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন পথচলতি সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রী বাসযাত্রীরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলেও এলাকাবাসীর বহুবার দাবি সত্ত্বেও এখনও তৈরি হয়নি ওভার ব্রিজ। ফলে রাস্তা পারাপারে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় স্থানীয় মানুষজন ও স্কুলের পড়ুয়াদের। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে জাতীয় সড়ক পার হওয়া কার্যত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করার সমান বলেই অভিযোগ অভিভাবকদের।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সাল থেকে একাধিকবার এই ওভার ব্রিজ তৈরির দাবি জানানো হলেও ২০২৫ সালের মধ্যভাগে এসেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন, পঞ্চায়েত এবং জেলা স্তরে বারবার দরবার করেও মিলছে না কোনও স্থায়ী সমাধান। এলাকার মানুষের দাবি, পাশের একটি বিকল্প রাস্তা থাকলেও বর্ষার সময়ে সেটি জলে ডুবে থাকে, কাঁদায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বহু পড়ুয়া স্কুলে পৌঁছাতে না পেরে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসে। এই অব্যবস্থা থেকে বাঁচতেই সোমবার পথে নামতে বাধ্য হয় স্কুলপড়ুয়ারা।

    অবরোধের জেরে তীব্র যানজট তৈরি হয় বেলকাশ সংলগ্ন এলাকা জুড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বর্ধমান ১ ব্লকের বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধান ও স্থানীয় থানার আইসি। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দেন। অবশেষে প্রশাসনের আশ্বাসে উঠে যায় অবরোধ।

    এই ঘটনার মাধ্যমে ফের একবার সামনে উঠে এল জেলার পরিকাঠামোগত সমস্যার চিত্র। উন্নয়নের দাবি নিয়ে যেখানে বারবার কথা বলা হয়, সেখানে বাস্তবে এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষকে কতটা বিপন্ন করে তুলছে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেল।

  • কলেজ চত্বরে তরুণীর প্রেম নিবেদন কাকদ্বীপে

    কলেজ চত্বরে তরুণীর প্রেম নিবেদন কাকদ্বীপে

    কৃষক সেতু,উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,কাকদ্বীপ :কলেজ চত্বরে প্রকাশ্যে তরুণীকে প্রেম নিবেদন যুবকের, ভিডিও ভাইরাল।বিতর্কে যেন পিছু ছাড়ছে না দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ বিধানসভার কাকদ্বীপ সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে।এবার প্রকাশ্যে এলো কলেজ চত্বরে ইউনিয়নের সামনে মোটর সাইকেল চেপে এসে এক বহিরাগত যুবক তরুণীর সামনে নতজানু হয়ে বসে প্রেম নিবেদন করার ভিডিও। ভিডিও ভাইরাল হতে সর্বত্র নিন্দার ঝড়।

    এই বিষয়ে সরব হয়েছে এবিভিপি এবং ডিআইএফআই সদস্যরা।এ ঘটনা সিনেমা গল্পকে হার মানাবে। হঠাৎ দেখা যায় এক যুবক মোটর সাইকেল নিয়ে কলেজের ভিতরে চলে আসে,তখন চতুর্দিকে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে কথা বার্তায় ব্যস্ত। মোটর সাইকেল থেকে নেমে কলেজ চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবতীর সামনে গিয়ে নতজানু হয়ে বসে তরুণীকে প্রেম নিবেদন করল, এই ঘটনা দেখে চতুর্দিকে থাকা ছাত্র ছাত্রীরা কলরবে ফেটে পড়ে। যদিও বা এই ভাইরাল হওয়া ভিডিও সত্যতা বিচার করা হয় নি।


    কলেজের প্রিন্সিপালের দাবি এ ঘটনা বহু পুরানো, তিনি কলেজে আসার আগেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে এসব ঘটনা আর এই কলেজ চত্বরে ঘটছে না। তিনি বলেন কলেজ চত্বরে সিকিউরিটি গার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।তবে কলেজের পাঁচিল নিচু থাকায় মাঝেমধ্যে বহিরাগতরা কলেজের মধ্যে ঢুকে পড়ে।। কলেজ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে অতিসত্বর এই সমস্যা সমাধান করা হবে।

  • বর্ধমান থেকে নেত্রখন্ড পথে নয়ানজুলিতে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, রক্ষা পেলেন চালক-খালাসি

    বর্ধমান থেকে নেত্রখন্ড পথে নয়ানজুলিতে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, রক্ষা পেলেন চালক-খালাসি

    কৃষকসেতু, কৃষ্ণ সাহা,পূর্ব বর্ধমান:
    বর্ধমান থেকে নেত্রখন্ডের পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি যাত্রীবাহী বাস। রবিবার সন্ধ্যায় রায়নার আউসারা গ্রামের কাছে সেহারা বাজার যাওয়ার পথে বাসটি নয়ানজুলিতে পড়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ে বাড়ির জন্য বাসটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। পলাশন থেকে সেহারা বাজারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে যায় বাসটি।

    ঘটনার সময় বাসে যাত্রী ছিল না। চালক ও খালাসি ছাড়া আর কেউ ছিল না। দুজনকেই স্থানীয় বাসিন্দারা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

    খবর পেয়ে সেহারা বাজার ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে JCB দিয়ে বাসটিকে নয়ানজুলি থেকে তোলা হয়।

    এলাকাবাসীর তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল বলে মনে করা হচ্ছে।