Category: দক্ষিণবঙ্গ

  • সতর্কবার্তার পরও বেপরোয়া গতি! বর্ধমান–আরামবাগ রাজ্য সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

    সতর্কবার্তার পরও বেপরোয়া গতি! বর্ধমান–আরামবাগ রাজ্য সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

    পুলিশের বারবার সচেতনতা, সতর্কবার্তা এবং ট্রাফিক নিয়ম মানার অনুরোধ সত্ত্বেও বর্ধমান–আরামবাগ রাজ্য সড়কে এখনও থামছে না বেপরোয়া গতির গাড়ির দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু অনেক চালকই যেন ভুলে যান—একটু অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

     

    সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়কে যাতায়াত করে বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরবাইক। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে গাড়ির চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সেই সময়েও অনেক গাড়ি নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে ছুটতে দেখা যায়। ফলে পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলেও অনেক চালকের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট গতিসীমা মানা হয় না। আবার কেউ কেউ ওভারটেক করার সময় ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালান, যা বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

     

    পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ট্রাফিক সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। চালকদের হেলমেট ব্যবহার, সিটবেল্ট বাঁধা এবং নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তবুও কিছু অসচেতন চালকের জন্য পরিস্থিতি বারবার উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়। তাই শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই নয়, চালকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ বাড়ানো জরুরি। কারণ রাস্তা শুধু গাড়ির জন্য নয়, পথচারীদেরও।

     

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ধমান–আরামবাগ রাজ্য সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে আরও স্পিড ব্রেকার, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হোক। তবেই হয়তো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বেপরোয়া গতির এই প্রবণতা।
    শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা একটাই—কখন বুঝবে মানুষ? একটু ধীর গতি মানেই নিরাপদ জীবন। তাই সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা এবং নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা। গাড়ির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকুক, নিরাপদ থাকুক পথের জীবন।

  • মিরেপোতা বাজারে পথদুর্ঘটনা, টোটো উল্টে আহত ২ সহ এক শিশু

    মিরেপোতা বাজারে পথদুর্ঘটনা, টোটো উল্টে আহত ২ সহ এক শিশু

    পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান–আরামবাগ ৭ নম্বর রাজ্য সড়কের মিরেপোতা বাজার এলাকায় সোমবার ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার শিকার হল একটি যাত্রীবাহী টোটো। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টোটোটিতে ২ জন যাত্রী সহ এক শিশু বর্ধমানের দিক থেকে আরামবাগের উদ্দেশে যাচ্ছিল।

    এই সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি বোলেরো পিকআপ ভ্যান সজোরে ধাক্কা মারে টোটোতে। প্রচণ্ড আঘাতে ঘটনাস্থলেই উল্টে যায় টোটোটি। গুরুতর আহত হন টোটোতে থাকা দুই যাত্রী এবং শিশুটি।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান সেহারা পুলিশ ফাঁড়ির আইসি দীপক সরকার এবং সেহারা ট্রাফিক গাড়ির ওসি রক্তিম দত্ত। তাদের উদ্যোগে আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে নিকটবর্তী চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এদিকে ঘাতক বোলেরো পিকআপ ভ্যানটিকে চিহ্নিত ও আটক করার জন্য পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।

  • মেধাবী ছাত্রী দিশার পাশে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ

    মেধাবী ছাত্রী দিশার পাশে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ

    কৃষ্ণ সাহা , আরামবাগ:- হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক মানবিক উদ্যোগে উজ্জ্বল হলো বসন্তপুরের মেধাবী ছাত্রী দিশা চক্রবর্তীর ভবিষ্যৎ। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে দিশা। সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা ছিল একটি ট্যাব, যা দিয়ে সে অনলাইন ক্লাস করতে পারবে। আর্থিক সমস্যার কারণে তার মা সেই ট্যাব কিনে দিতে অসমর্থ ছিলেন।

    এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন আরামবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুপ্রভাত চক্রবর্তী । হুগলি গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকে দিশাকে উপহার দেওয়া হয় একটি ট্যাব। এটি তার ফিজিক্স ওয়ালা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।

    দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও দিশার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি পুলিশ প্রশাসনকে অনুপ্রাণিত করেছে। পুলিশের এই সহায়তা নিঃসন্দেহে দিশাকে তার স্বপ্নের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

    মানবিক এই উদ্যোগ সমাজে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
    দিশার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক — এটাই সকলের কামনা।

  • এবার মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় স্বাধীনতা সংগ্রামী রাসবিহারী ঘোষের বসত বাড়ি ও ভিটা

    এবার মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় স্বাধীনতা সংগ্রামী রাসবিহারী ঘোষের বসত বাড়ি ও ভিটা

    প্রদীপ চট্টেপাধ্যায় বর্ধমান

    সম্পন্ন হল জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া। এবার হয়তো
    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মর্যাদা প্রাপ্তি ঘটবে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের তোড়কনা গ্রামে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামী স্যার রাসবিহাসী ঘোষের বসত ভিটা ও বাড়ির। বৃহস্পতিবার রাসবিহারী ঘোষের বসত ভিটে ও বাড়ি সহ মোট ২৩ শতক অর্থাৎ সাড়ে ১১ কাঠা জায়গার দলিল রাসবিহারী ঘোস স্মৃতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলাশাসক আয়েষা রানী এ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে জেলাশসক ছাড়াও রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক পঞ্চানন দত্ত,জেলা পুলিশ সুপার সায়ক দাস এবং খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীন চন্দ্র বাগ উপস্থিত থাকেন।

    জেলাশাসক আয়েষা রানী এ বলেন, স্যার রাসবিহারী ঘোষের বসত ভিটা ও বাড়ির জমির দলিল এদিন আমরা হাতে পেলাম। ইতিমধ্যেই একটি আর্কিটেকচার সংস্থা ওই বাড়ি পরিদর্শন করেছে। তারা তাদের রিপোর্ট তৈরি করে দেবে।গোটা বিষয়টি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ, বা
    “আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া” (ASI) র কাছে পাঠানো হবে।পাশাপাশি রাজ্য হেরিটেজ বিভাগকেও রিপোর্ট দেওয়া হবে।ভাঙা বাড়িকে অক্ষত রেখেই তার পুননির্মাণ করা হবে।ফাঁকা জমিতে মিউজিয়াম তৈরি করে তুলে ধরা হবে স্যার রাসবিহারী ঘোষের কার্যকলাপ।

    স্যার রাসবিহারী ঘোষের জন্ম হয় ১৮৪৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর।তিনি ছিলেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং লোকহিতৈষী।দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসেও তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।খণ্ডঘোষ গ্রাম থেকে তিনি তাঁর প্রারম্ভিক জীবন শুরু করেন। ১৯২১ সালের মৃত্যু ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রয়াত হন।তোড়কনার মতো প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দিল্লি গিয়ে রাসবিহারী ঘোষ গোটা দেশ কাঁপিয়েছেন।এহেন মহান ব্যক্তির বসত বাড়িটি আজ জন্মস্থানে কঙ্কালসার হয়ে কোনরকমে দাঁড়িয়ে আছে।ওই বাড়িতে নেই দরজা
    , জানালা।সামনের মাঠে গরু চড়ে বেড়ায়। বাড়ির
    দেওয়ালের গায়ে দেখাযায় সারি সারি ঘুঁটে। বাড়ির গা বেয়ে উঠেছে লতানে গাছ। যেখানে সাপখোপের আড্ডা থাকাও আশ্চর্য নয়। তারই মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বীর বাঙালির ঐতিহাসিক বাড়ি।

    দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ রাসবিহারী ঘোষের বাড়িটি হেরিটেজ ঘোষণার দাবি করে আসছিলেন
    ।বসত বাড়ি ছাড়াও, মন্দির,পাঠাগার পদ্মপুকুর,
    এ সবও রয়েছে রাসবিহারী ঘোষের নামে। কিন্তু তাঁর জন্মভিটে ও বাড়ি সংস্কারের কোনও ব্যবস্থা এতদিধর নেওয়া হয়নি। রাসবিহারী ঘোষ জীবনের কোনও পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি। অধ্যাপনা দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর পেশাগত জীবন। তারপর বিশ শতকের গোড়ার দিকে তিনি সম্পূর্ণভাবে আইনি পেশাকে আঁকড়ে ধরেন। তাঁর সহকারীর তালিকা দেখলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হবে।’বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ, কে নেই তাতে। আইনজীবী হিসেবে সেই আমলে অন্যদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পারিশ্রমিক নিতেন রাসবিহারী ঘোষ।তিনি তাঁর উপার্জনের সিংহভাগই খরচ করতেন বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতিকল্পে।

    বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে নরমপন্থী-চরমপন্থী বিভাজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন রাসবিহারী ঘোষ। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ স্কুল-কলেজ থেকে বিতাড়িত পড়ুয়াদের জন্য তিনি বিকল্প শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। কার্যত তাঁর চেষ্টাতেই টিকে ছিল বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট। মৃত্যুর আগে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা দান করে যান কারিগরি শিক্ষার উন্নতি কল্পে। সেই অর্থেই ১৯২২ সালে যাদবপুরে ৩৩ একর জমিতে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটকে স্থানান্তরিত করা হয়। নতুন নাম হল কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি। আজ সেটিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই চেনে গোটা বিশ্ব।

    বিধায়ক নবীন চন্দ্র বাগ বলেন, বিধানসভায় তিনি রাসবিহারী ঘোষের জন্মভিটের খারাপ অবস্থার কথা তুলে ধরেন।শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাকে কথা দিয়েছিলেন, বাদল অধিবেশনের পর পরিদর্শন হবে রাসবিহারী ঘোষের বসতভিটেতে।তিনি কথা রেখেছেন।তাই আজ এতবড় একটা কাজ সম্ভব হল।আর রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক পঞ্চানন দত্ত বলেন,“এই জমি আমাদের হাতে রাসবিহারী ঘোষের নাতি অলোক ঘোষ তুলে দিয়ে ছিলেন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।সেটা আজ জেলাশাসকের হাতে আমরা তুলে দিলাম ।”

    পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম বলেন, মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যারা এতদিন অবজ্ঞার শিকার হয়ে আসছিলেন তাদেরকে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা আশা রাখি বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তর মত দানবীর স্যার রাসবিহারী ঘোষ ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা পাবেন এবং তার বসতভিটাও সংরক্ষিত হবে।

  • জলবাহিত রোগ রুখতে নানুর বিধানসভার প্রতিটা স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের উদ্যোগ নানুরের বিধায়কের

    জলবাহিত রোগ রুখতে নানুর বিধানসভার প্রতিটা স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের উদ্যোগ নানুরের বিধায়কের

    কার্তিক ভান্ডারী। বীরভূম

    দিন দিন বেড়েই চলেছে পানীয় জলবাহিত রোগের সংখ্যা। প্রাইমারি ও হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন নানুর বিধানসভার বিধায়ক বিধান চন্দ্র মাঝি। বিধায়ক তহবিল থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করে এখনো পর্যন্ত নানুর বিধানসভার ৩৩টি প্রাইমারি স্কুল ও ১৮টি হাই স্কুলে ঠান্ডা, গরম ও নরমাল তিন ধরনের বিশুদ্ধ পানীয় জলের অটোমেটিক পিউরিফায়ার মেশিন বসানো হয়েছে।

    এদিন নানুর ব্লকের খুজুটিপাড়া রাধাগোবিন্দ জিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন জলপিউরিফায়ার মেশিন বসানো হয়। ফিতে কেটে পানিয় জলের মেশিনটি উদ্বোধন করেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল সেখ, বিধায়ক বিধান চন্দ্র মাঝি ও বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল।

    একই সাথে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে মিড ডে মিলের খাবার খান জেলা সভাধিপতি ও বিধায়ক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বোলপুর লোকসভার সাংসদ অসিত মাল ও নানুরের বিধায়ক বিধান চন্দ্র মাঝি সহ স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা।

  • বারুইপুরে টোটো চুরির পান্ডা গ্রেপ্তার,উদ্ধার সাতটি চোরাই গাড়ি

    বারুইপুরে টোটো চুরির পান্ডা গ্রেপ্তার,উদ্ধার সাতটি চোরাই গাড়ি

    উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,বারুইপুর:অবশেষে বারুইপুরে টোটো চুরির পান্ডাকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।উদ্ধার হলো সাতটি চোরাই টোটো গাড়ি। পরিবার নিয়ে আর কেদারনাথ দর্শন করা হল না টোটো চুরির পান্ডার। নাম চন্দন সরকার। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে।চা বিক্রেতা, ট্রেনের যাত্রী ও ফেরিওয়ালা সেজে হাওড়া স্টেশন থেকে তাকে ধরে ফেলল বারুইপুর থানার পুলিসের বিশেষ দল।চন্দনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের আরও এক সঙ্গী রিসিভার নদীয়ার চাকদহ দরাতপুরের এক বাসিন্দার হদিশ পায় পুলিস।

    অভিযুক্তের নাম রামপদ মণ্ডল।আর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে মোট সাতটি চোরাই টোটো। জানা গিয়েছে,অভিযুক্ত রামপদ নদীয়ার দরাতপুরের বিজেপি নেতা।কিছু দিন ধরে বারুইপুর থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক টোটো চুরি হচ্ছিল। গত এক মাসে বারুইপুরে অন্তত ১২টি টোটো চুরি হয়েছে বলে পুলিশ সূএে জানা গিয়েছে।গত ১৫ ই আগস্ট বারুইপুর কাছারি বাজারের সামনে থেকে একটি টোটো চুরি হয়ে যায়। টোটোর মালিক অজিত বিশ্বাস বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

    আর তার পরে বারুইপুর থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের নির্দেশে এসআই রনি সরকারের নেতৃত্বে বিশেষ দল গঠিত হয়।এই টোটো চুরির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। তা খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা হদিশ পান পান্ডা চন্দনের। গত সোমবার পরিবার সহ কেদারনাথ দর্শনের জন্য হাওড়া স্টেশনে হাজির হয়েছিল সে। পুলিশের ওই দল জানতে পারে, চন্দন কুম্ভ এক্সপ্রেস ধরবে। সেই মতো প্ল্যান তৈরি করেন তদন্তকারীরা। দুপুর ১টা নাগাদ স্টেশন থেকে তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।


    পুলিস জানিয়েছে, চন্দন টোটো চুরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। কাছে রেখে দিত ব্যাটারি চার্জারও। এই চন্দনের সঙ্গে ‘রিসিভার’ রামপদর জেলে আলাপ হয়েছিল। চন্দন চুরি করে টোটো পৌঁছে দিত রামপদর কাছে। রামপদ টোটো বিক্রি করত সর্বাধিক ১ লক্ষ টাকায়। কখনও কখনও মাত্র ২৫ হাজার টাকায় টোটো বিক্রি হয়ে যেত। পুলিস জানতে পেরেছে, এই টোটো চুরি চক্রের সঙ্গে বারুইপুরের কেউ জড়িত। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

  • শহর জুড়ে জল জমল, বর্ধমান পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ

    শহর জুড়ে জল জমল, বর্ধমান পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ

    টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে বর্ধমান শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। রাস্তাঘাট থেকে পাড়া-মহল্লা সবই ডুবে যায় জলের তলায়। এ নিয়ে সমাজ মাধ্যমে বর্ধমান পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া একাধিক খাল আগাছায় ভরতি হয়ে থাকায় বৃষ্টির জল নামতে পারেনি। খাল-পুকুর উপচে বহু এলাকায় জল ঢুকে যায়। শহরের ভিতর দিয়ে যাওয়া বাঁকা নদীও টইটম্বুর হয়ে ওঠে।

    সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা যায় বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়া, বাথানপাড়া, ছোটনীলপুর-বড়নীলপুর, বাবুরবাগ, লক্ষ্মীপুর, সুভাষপল্লি, শ্যামলাল মিঠাপুকুর, সাহাচেতন, শুলিপুকুর, টিকরহাট, খালুইবিল মাঠ, আঞ্জিরবাগান, বাজেপ্রতাপপুর-সহ একাধিক এলাকায়। বাবুরবাগের একাংশে কোমরসমান জল জমে যায়। বাজেপ্রতাপপুরে পুরসভাকে ত্রাণ শিবির খুলে প্রায় ১৫টি পরিবারকে আশ্রয় দিতে হয়েছে।

    নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েই মূলত ক্ষোভ স্থানীয়দের। ওয়ার্ড ১১ নম্বরের ক্ষুদিরামপল্লির বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক পশলা বৃষ্টিতেই এলাকায় জল জমে থাকে। খাল-নিকাশি ব্যবস্থা আগাছায় ভরতি, প্রতি বছর বর্ষায় তিন-চার মাস জলে কাটাতে হয়। রাস্তাঘাটও ভাঙাচোরা, ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে।

    যদিও পুরপ্রধান পরেশ সরকার বলেন, “বৃষ্টির জল কোথায় রাখব? কাল অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। গত দু’মাস ধরে যে হারে বৃষ্টি হয়েছে, গত ৩০-৪০ বছরে দেখিনি। শহরে কোথাও ১৫-২০ মিনিটের বেশি জল দাঁড়িয়ে ছিল না। বাসিন্দাদের আমাদের উপর আস্থা রাখতে হবে।”

    কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা রোডে জেলা কৃষি দফতরে শুক্রবার ২৯২.৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। বর্ধমানের কানাইনাটশালে ৮৮.২০ মিমি এবং ইদিলপুরে ৭৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।

    তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। বিজেপি যুব নেতা শুভম নিয়োগীর অভিযোগ, “শহর জুড়ে নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুরপ্রধান শহরবাসীর সঙ্গে রসিকতা করছেন।” কংগ্রেস নেতা গৌরম সমাদ্দার বলেন, “মে মাসের বৃষ্টিতেও শহরে জল জমেছিল। তখন পুরপ্রধান জানিয়েছিলেন নিকাশি ব্যবস্থার কাজ চলছে। আজকের পরিস্থিতি তার উল্টো ছবি তুলে ধরল।”

  • সাতসকালে ভয়াবহ পথ দূর্ঘটনা জয়নগর,আহত একাধিক

    সাতসকালে ভয়াবহ পথ দূর্ঘটনা জয়নগর,আহত একাধিক

    উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর :বৃহস্পতিবার সকালে পথ দূর্ঘটনা জয়নগরে।আহত একাধিক।এদিন সকাল সাতটা নাগাদ জয়নগর থানার উওর দূর্গাপুর পঞ্চায়েতের মুচিপাড়া এলাকায় জয়নগর মুখী একটি টাটা সুমো ও বহড়ু মুখী একটি মোটর ভ্যানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।এতে মোটরভ্যান চালক সহ টাটা সুমোয় থাকা কয়েকজন আহত হন।

    স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পদ্মেরহাট গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করায়।আহতদের মধ্যে মোটরভ্যান চালকের আঘাত গুরুতর।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জয়নগর থানার পুলিশ।পুলিশ এসে ক্ষতিগ্রস্থ গাড়ি দুটিকে জয়নগর থানায় নিয়ে যায়।এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জয়নগর থানার পুলিশ।

  • কালনায় বেপরোয়া গতীর বাসের ধাক্কায় মৃত্যু বাবা -মেয়ে ও তাঁদের আত্মীয়র

    কালনায় বেপরোয়া গতীর বাসের ধাক্কায় মৃত্যু বাবা -মেয়ে ও তাঁদের আত্মীয়র

    প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান ২১ আগষ্ট

    হাসপাতালে চিকিৎসা করানো আর হল না ।পথে বেপরোয়া গতীর যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন স্কুটিতে সওয়ার অসুস্থ বাবা ও তাঁর মেয়ে সহ তিনজন।বৃহস্পতিবার বেলায় মর্মান্তিই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার ধাত্রীগ্রামে কালনা-নবদ্বীপ রোডে মৃতরা হলেন ফরজ মল্লিক (৫৪), নূরজাহান খাতুন (২০), ফারহানা খাতুন (১৮)। মৃতদের বাড়ি কালনা মহকুমার নাদনঘাট ও কালনা থানা এলাকায়।এদিনই কালনা হাসপাতাল মর্গে তিন মৃতর দেহের ময়নাতদন্ত হয় । দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও স্কুটি আটক করে পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদনঘাট থানার ধামাই এলাকায় বাড়ি ফরজ মল্লিকের।তিনি বছর দুই আগে স্থানীয় উত্তরডিহি এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর মেয়ে নূরজাহানের বিয়ে দেন । ফারহান সম্পর্কে নূরজাহানের মামাতো বন।কালনা থানার বেগপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তার বাড়ি। ফারহান মুড়াগাছা গর্ভমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

    পরিবার সদস্যদের কথায় জানা গিয়েছে,কিছুদিন যাবৎ ফরজ মল্লিকের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না।
    তাই এদিন তিনি কালনা হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । সেই মত বেলায় মেয়ে নূরজাহান খাতুন ও আত্মীয় ফারহানা খাতুন কে সঙ্গে নিয়ে ফরজ মল্লিক স্কুটিতে চেপে কালনা হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। ওইসময় কালনার ধাত্রীগ্রামের বড় স্বরাজপুর এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে তাদের স্কুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তাতে
    দুমড়ে-মুচড়ে যায় স্কুটিটি । আর স্কুটিতে সওয়ার থাকা তিন আরোহী রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন।

    এই দুর্ঘটনার পরেই স্থানীয় মানুষজন রক্তাত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা স্কুটির তিন আরোহীকে
    উদ্ধার করে কালনা হাসপাতালে নিয়ে যান ।
    সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরজ মল্লিক ও তাঁর মেয়ে নূরজাহান খাতুনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
    এর খানিক পরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা নূরজাহানের মামাতো বোন ফারহানা খাতুন মারা যান।

    একই দিনে একসঙ্গে পরিবারের তিনজনের এমধ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবার সদস্যরা।মৃত ফরজ মল্লিকের ছেলে নূর হাসান বলেন, “ বাবা ও বোন স্কুটিতে চেপে কালনা হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিল। ওই স্কুটিতে আমাদের মামাতো বোনও ছিল। মামাতো বোন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। একটি বাস বেপোরোয়াভাবে স্কুটিতে ধাক্কা মারে।তাতে তিনজনেরই মৃত্যু হয় “।

    কালনা পুলিশের ট্র্যাফিক ওসি অতনু বোস বলেন, “ এদিনের দুর্ঘটনায় জখম বাইক আরোহীদের মাথাতেই চোট বেশি লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তাদের মাথায় কোনও হেলমেট ছিলনা। মাথায় হেলমেট থাকলে তারা হয়তো প্রাণে বেঁচে যেতেন।’“বেপোরোয়া গতীতে যানবাহন চলাচল নিয়ে এদিন সরব হন এলাকার বাসিন্দারা।

  • কোতুলপুরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, বারোচাকা লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

    কোতুলপুরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, বারোচাকা লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

    সত্যজিৎ মালিক, কোতুলপুর :- বাঁকুড়ার কোতুলপুরের গোগড়া এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক বৃদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা খেতে সাইকেল নিয়ে গোগড়া বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন রাস বিহারী চক্রবর্তী (বয়স আনুমানিক ৬০)। সেই সময় হঠাৎই উল্টো দিক থেকে আসা একটি বারোচাকা লরি তাঁকে পিষে দেয়।

    ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়, এলাকার মানুষ অভিযোগ করে এই মৃত্যুর জন্য দায় বেহাল রাস্তা ও বেপরোয়া গাড়ির গতি। কোতুলপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও দেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় গাড়িগুলির বেপরোয়া চলাচলই এমন দুর্ঘটনার কারণ।