আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

প্রত্নতাত্ত্বিক কালিদাস দও স্মৃতিরক্ষা সমিতির উদ্যোগে কালিদাস দওের বাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবিতে বারুইপুর মহকুমা শাসককের কাছে আবেদন করা হলো বৃহস্পতিবার

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: অবিভক্ত চব্বিশ পরগনার ইতিহাস চর্চার পথিকৃৎ শ্রদ্ধেয় কালিদাস দত্তের মজিলপুরের বাড়ি ‘ঐতিহ্য ভবন’ বা হেরিটেজ ভবন ঘোষণা করে সরকারী অধিগ্রহণ ও সংগ্রহশালায় রূপান্তরিতকরণের আবেদন করা হলো বৃহস্পতিবার বিকালে বারুইপুর মহকুমা শাসকের কাছে ।অবিভক্ত চব্বিশ পরগনার ইতিহাস চর্চার পথিকৃৎ প্রয়াত প্রত্নতত্ত্ববিদ শ্রদ্ধেয় কালিদাস দত্তের (জন্মঃ ১০ই ডিসেম্বর ১৮৯৫-প্রয়াণঃ ১৪মে ১৯৬৮) মজিলপুর কালিদাস দত্ত রোডের দ্বিতল ভবনটি হেরিটেজ ভবন হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক ঘোষণা করে অধিগ্রহণ ও একটি সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত ব্যবস্থাদি গ্রহণের জন্য সমগ্র চবিবশ পরগনা তথা নিম্নবঙ্গের ইতিহাস ঐতিহ্যপ্রিয় মানুষের হয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক কালিদাস দত্ত স্মৃতিরক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে এদিন আবেদন করা হয়।

এদিন বারুইপুর মহকুমা শাসক চিত্রদীপ সেনের কাছে কালিদাস দও স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ চক্রবর্তী উপদেষ্টা মন্ডলির বিশিষ্ট সদস্য তথা বারুইপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায় চৌধুরী,সদস্য বিশ্বজিত ছাটুই, গৌতম মন্ডল,সাংবাদিক উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, ভোলানাথ হালদার আবেদন পত্র তুলে দেন।এদিন সমিতির দেওয়া আবেদন পত্র গ্রহন করে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন বারুইপুর মহকুমা শাসক চিত্রদীপ সেন।জয়নগর থানার মজিলপুরের জমিদার দত্ত পরিবারের সন্তান কালিদাস দত্ত ১৯২৪ সালে জমিদারি দেখাশোনার কাজে তৎকালীন মথুরাপুর বর্তমানে রায়দিঘী থানাভুক্ত পশ্চিম জটা গ্রামে ঘন জঙ্গলের মধ্যে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু উত্তর ভারতীয় রেখ দেউল ঘরানার মন্দির দেখে প্রচণ্ড বিঘ্নিত হন। এই ঘটনা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, তাঁকে পরিণত করে অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতের অন্যতম সেরা অপেশাদার প্রত্নতত্ত্ববিদে।

স্বাধীনতার আগে যে সময়ে সুন্দরবনে প্রাণঘাতী বাঘ, কুমীর, সাপের ভয়, রাস্তাঘাট নেই, সেতু নেই, যানবাহন নেই সেই সময়ে ধনী জমিদার সন্তান মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে অথবা নৌকা করে ঘুরেছেন। নৌকাতে বা চাষীর চালাঘরে রাত কাটিয়েছেন। ভালো করে খাওয়া হয়নি, বিশ্রাম হয়নি এইভাবে আবিষ্কার করেছেন জৈন, বৌদ্ধ, হিন্দু মঠ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, কাঁচা ও পোড়া মাটির পুতুল, পাথরের হাতিয়ার, ধাতুর মূর্তি, মুদ্রা, বিভিন্ন যুগের মাটির পাত্র, ইট, মাটির ও মাঝারি দামী পাথরের পুঁতিদানা।

See also  বিদ্যালয় শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতার বিরুদ্ধে গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতির ডেপুটেশন

সুন্দরবনে ভারতের অন্য অঞ্চলের মত প্রাচীন সভ্যতার গৌরবময় ঐতিহ্য আছে তার প্রমাণস্বরূপ এসব প্রত্নসম্ভার চাক্ষুষ করতে বিদেশের ও অবিভক্ত ভারতের শেষ্ঠ পণ্ডিতগণ এসেছেন তাঁর এই বাড়িতে।তাঁদের মধ্যে ছিলো অন্যতম ননীগোপাল মজুমদার, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর্নীতি চট্টোপাধ্যায়, দীনেশ চন্দ্র সেন, স্টেলা ক্রেমরিশ, রমাপ্রসাদ চন্দ, দেবপ্রসাদ ঘোষ, নীহাররঞ্জন রায়, বিনয় ঘোষ, হেমচন্দ্র রায় সহ আরও অনেকে। ভবনের দ্বিতলের কক্ষে উৎকীর্ণ ফলকে দেখা যায়, এই বাড়িতে ১৮৬৪ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিছুদিন ছিলেন ও তাঁর বিষবৃক্ষ উপন্যাসের কিছু অংশ এই বাড়িতে লেখা হয়। আরও উল্লেখযোগ্য, এই বাড়িতেই অবিভক্ত চব্বিশ পরগনার প্রথম প্রশ্ন সংগ্রহশালাটি গড়ে তুলেছিলেন শুধু জ্ঞান পিপাসু মনের নিবৃত্তি নয়, সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কার ও পরাধীন ভারতে দেশমাতা তথা জন্মভূমির গৌরববৃদ্ধির আকৃতিও তাঁকে জীবনের চারটি দশক উৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তাঁর চিন্তাধারা ছিল সুদরপ্রসারী ও গঠনমূলক তিনি তাঁর আবিষ্কার ও অন্যান্য প্রসঙ্গে মোট ১০০টির মত প্রবন্ধ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, একদল যুবক পদক্ষেপ অনুসরণ করে সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন।এ ব্যাপারে উক্ত সমিতির সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, আজ ২০-৩০টি সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে ২৪ পরগনায়। কালিদাস দত্তও তাঁর এই বাড়ির সংগ্রহশালা সুন্দরবন তথা বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য শুধু কিছু ইট কাঠের সমাহার নয়। অবিভক্ত ভারতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণের পদধুলিতে ধন্য। তাই এই বাড়িকে হেরিটেজ যোষণা করে সরকারী অধিগ্রহণও সংগ্রহশালা নির্মাণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভালো হয়।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি